দিরাই সংবাদদাতা
তন্ময় কৃষ্ণ দাস। সম্প্রতি তিনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে গুগলে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। আগামী এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে কাজে যোগ দিতে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন যাচ্ছেন তিনি। তন্ময় পড়াশোনা করেছেন শাবিপ্রবিতে। কম্পিউটার সায়েন্সে ডিস্টিংশনসহ অনার্স পাস করেন। এর আগে দিরাই মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা এবং চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি।
তন্ময় কৃষ্ণ দাস’র বাড়ি দিরাই উপজেলার সড়মঙ্গল ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে।
উপজেলার বাউসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহিনী কান্ত দাস ও নতুন কর্ণগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রীতি রানী দাসের দুই ছেলের মধ্যে তন্ময় বড়।
তন্ময় বলেন, ভার্সিটি লাইফ থেকে ইচ্ছা ছিল কোন বড় কোম্পানিতে চাকরি করার। জানতাম গুগলের ইন্টারভিউ কঠিন। অনেক প্রস্তুতি নিয়েছি। রিক্রুটার সিভি সিলেক্ট করল। সে সবের উত্তর দেওয়ায় রিক্রুটার আমাকে পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে অবহিত করেছেন। পরের ধাপে ইন্টারভিউ দিলাম। অনসাইটে ইন্টারভিউ দিলাম। কোভিডের কারণে এটিও ভাচুর্য়ালি হয়েছে। অনসাইট মূলত ৫টি ইন্টারভিউয়ের কম্বিনেশন। ৪টি কোডিং এবং একটি বিহেভিয়ার সম্পর্কিত যেটি গুগললিনেস নামে পরিচিত। এরপর শুরু হয় টিম ম্যাচিং রাউন্ড। এরপর আমার সিভি রিক্রুটার নিয়োগ কমিটির কাছে সাবমিট করে। তারা কিছু ফর্মালিটি শেষ করে চূড়ান্ত নিয়োগের খবর দেয়। ওয়ার্ক পারমিট এসে গেছে। ভিসা প্রসেসিংয়ের কাজ চলছে। তারা আশা করছেন এপ্রিল থেকে শুরু করতে পারব।
তিনি বলেন, পরিবার ছাড়াও আমার ভার্সিটির শিক্ষকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। একজনের কথা না বলেই নয় আমাদের ভার্সিটির মো. সাইফুল ইসলাম স্যার। তিনি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। অনিক সরকার ভাই আমাকে গাইডলাইন দিয়েছেন। রেফার করেছেন।
জীবনে কি হতে চেয়েছিলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তন্ময় বলেন, আমার ছোট বেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল বিজ্ঞানী হবো, কিন্তু যখন কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হলাম তখন রিসার্চ কাজের চেয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং বা সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজে আগ্রহ বেড়ে যায়।
পরিবারের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমার সফলতার পিছনে অবশ্যই আমার পরিবারের বিশাল অবদান আছে। আমার পরিবার চেয়েছিল আমি ডাক্তার হই, কিন্তু আমি যখন কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হলাম তখন আমার পরিবার আমার মতকেই প্রাধান্য দিয়েছে। আত্মীয় স্বজন পাড়াপ্রতিবেশীরা বারবার বলতে শুরু করলো— বিসিএস দিচ্ছনা কেন? তখন আমার পরিবার আমাকে বলে— তোমার জন্য যেটা সঠিক মনে কর সেটাই তুমি বেছে নাও। তুমি খুঁশি হলেই আমরা খুঁশি।
প্রীতি রানী দাস ছেলে সম্পর্কে বলেন, তন্ময়ের ছোটবেলা থেকেই নতুন কিছু জানার। ব্যতিক্রমী কিছু করার একটা প্রবণতা ছিল তন্ময়ের। শব্দ দিয়ে বাক্য তৈরি করতে বললে বেশ আনকমন ও ইন্টারেস্টিং বাক্য লিখত। প্রশ্ন করতে খুব ভালোবাসত। ভালোবাসত বই পড়তে। শাবিপ্রবি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ডিস্টিংশনসহ অনার্স পাস করে তন্ময়। এখন সে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে চাকুরি পেয়েছে গুগলে। একই সাথে সে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ট্রাভেল এজেন্সি ও অনলাইন মেটাসার্চ ইঞ্জিন অমড়ফধ থেকে চাকুরির অফার পেয়েছিলো। বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো থেকেও চাকুরির অফার পেয়েছিল, কিন্তু সে বেছে নেয় গুগলকেই।
তন্ময়ের মেজোমামা মাধব দীপ (সহকারী অধ্যাপক, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) বলেন, আমার অভিজ্ঞতা বলে— বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সে হতে পারতো, হতে পারতো বিসিএস ক্যাডারও। কিন্তু এসবে তার মোটেও আগ্রহ ছিলো না।
তন্ময় বাবা শিক্ষক রুহিনী কান্ত দাস বলেন, আমার ছেলেটা এখনও শিশুর মতো সহজ সরল। মানুষকে খুব বেশি বিশ্বাস করে। পরনিন্দা পরচর্চা একদম সহ্য করতে পারে না। শিশুদেরকে খুব পছন্দ করে সে। তবে তার জীবন দর্শন, তার চিন্তাচেতনা অনেক উঁচু স্তরের। সে যখন তার মামাদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলে আমি তখন দূর থেকে মনোযোগি হয়ে তার আলোচনা শুনি। মনে মনে ভাবি, আমার সেই ছোট্ট ছেলে আজ কত সুন্দর সুন্দর যুক্তি উপস্থাপন করছে। কত বড়দের মতো কথা বলছে। তার চিন্তার গভীরতা, তার জীবন বোধ, তার মানবিক মূল্যবোধ, তার উপলব্ধি, শব্দ চয়নের দৃঢ়তা, স্পষ্টবাদীতা, ন্যায়নিষ্ঠা আমাকে মুগ্ধ করে।
- ধর্মপাশায় বীরনিবাস নির্মাণে অনিয়ম, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ কাজের মান বজায় রাখা জরুরি
- লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মহিব চৌধুরীকে সংবর্ধনা


