গুপ্তহত্যার প্রতিবাদে দেশব্যাপী মানববন্ধন করবে ১৪ দল

সু.খবর ডেস্ক
দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান গুপ্তহত্যার প্রতিবাদে আগামী ১৯ জুন বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দেশব্যাপী এক ঘণ্টা মানববন্ধন এবং ১৪ জুন ঝিনাইদহে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। শুক্রবার বিকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসুচির কথা জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
নাসিম বলেন, রমজানের পর গ্রামে-গঞ্জে ১৪ দল টিম করে লাগামহীনভাবে এসব হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে গণজাগরণ তৈরি করবে। আগামী ১৯ জুন বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দেশব্যাপী এক ঘণ্টা মানববন্ধন করবে ১৪ দল। এছাড়া ১৪ জুন ঝিনাইদহে নিহত পুরোহিতের বাসায় যাবেন ১৪ দলের নেতারা এবং সেখানে সমাবেশ করা হবে।
দেশে চলমান গুপ্তহত্যায় জড়িতদের রক্ষার্থে বেগম খালেদা জিয়া ঘোমটা খুলে নেমেছেন মন্তব্য করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অত্যন্ত কাপুরোষিতভাবে গুপ্তহত্যাগুলো ঘটানো হচ্ছে। অশুভ লক্ষ্য অর্জনের জন্যই এ ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে। খালেদা বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতারা নাকি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এই কথা বলে তিনি খুনিদের প্রকাশ্যে প্রটেকশন দিচ্ছেন। তার এ চরিত্র নতুন নয়। এর আগে তিনি এবং তার স্বামী যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে চেয়েছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যখন আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোতে শেখ হাসিনা যখন গুরুত্ব পাচ্ছেন। দেশ যখন উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির দিকে এগুচ্ছে, শান্তির দ্বীপে পরিণত হতে যাচ্ছে। তখন সুপরিকল্পিতভাবে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া নগ্নভাবে, ঘোমটা খুলে নিয়েছেন খুনিদের রক্ষা করতে। যারা মারা গেছেন, তাদের পরিবারকে সমবেদনা না জানিয়ে খুনিদের তিনি প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এর নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই।
নাসিম বলেন, যারা ভাবছেন এসব ঘটনার পর আমরা আপস করবো, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। কারণ শেখ হাসিনা আপস করে না।
এ সময়ে বৈঠকের সভাপতি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিও সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ফখরুল সাহেব বলেছেন, চিরুনি অভিযানে নাকি তাদের কর্মীদের ধরপাকড় করা হবে। কিন্তু বিএনপি তাদের প্রশ্রয় না দিলে তাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
এ সময়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজিত রায় নন্দী ও আমিনুল ইসলাম আমিন, জাতীয় পার্টি জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নুরুর রহমান সেলিম, তরিকত ফেডারেশনের এম এ আউয়াল, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, গণআজাদী লীগের এস কে শিকদার, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।