স্টাফ রিপোর্টার
বেড়িবাঁধ নির্মাণের সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। কাজ এখনও শেষ হয়নি। কিন্তু বাঁধ নির্মাণে নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে। সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের কামারটুক গ্রামের পাশে খরচার হাওরপাড়ের ৬ নম্বর পিআইসি’র নির্মিত বেড়িবাঁধে নানা অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। একেবারে বাঁধের গোড়া ঘেঁষে একাধিক খনতা করে মাটি উত্তোলন করায় বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এমন অভিযোগ একাধিক কৃষকের।
খরচার হাওরপাড়ের ৬ নম্বর পিআইসি’র বেড়িবাঁধ নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ২২ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা। কিন্তু পুরাতন বেড়িবাঁধের উপর নির্মাণ কাজে সঠিক উচ্চতা নিয়ে আছে সন্দেহ। ঢালু ও প্রস্তের মাপ নিয়েও অনেকে সন্দেহ করছেন। বেড়িবাঁধে দুর্মুজ করা হয়নি, ঘাস লাগানো হয়নি এখনও। পর্যাপ্ত মাটি ভরাট করা হয়নি বেড়িবাঁধের উপরে। বেড়িবাঁধ নির্মাণে বাঁধের গোড়া থেকে মাটি উত্তোলন করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খরচার হাওরপাড়ের একাধিক কৃষক জানান, যে পরিমাণে বাঁধ নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেই পরিমাণে ৬৭২৯.৬৬ ঘন মিটার মাটি ভরাট করা হয়নি। সময়মত সঠিকভাবে এই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। সুষ্ঠুভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি কৃষকদের।
খরচার হাওরের ৬ নম্বর পিআইসি’র সদস্য সচিব আলী হোসেন বলেন, বেড়িবাঁধে কোনো অনিয়ম হয়নি।
সভাপতি আবুল বরকত বলেন, বেড়িবাঁধের গোড়া থেকে খন্তা করে মাটি উত্তোলন করা হয়েছে। এইভাবে খন্তা করায় বাঁধে কোনো সমস্যা হবে না। ঘাস লাগানো ও দুমূর্জ করার কাজ বাকী রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী বলেন, বেড়িবাঁধের কাজে যেমন নির্দেশনা আছে, সেইভাবে করা হয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান শাহরিয়ার বলেন, গৌরারং ইউনিয়নের খরচার হাওরপাড়ের ৬ নম্বর পিআইসি’র নির্মিত বাঁধের গোড়া থেকে যে মাটি উত্তোলন করা হয়েছে, সেই বিষয়টি একজন অফিসার পাঠিয়ে খুঁজে দেখা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহরুল ইসলাম বলেন, গৌরারং ইউনিয়নের খরচার হাওরপাড়ের ৬ নম্বর পিআইসি’র নির্মিত বেড়িবাঁধে অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


