গোবিন্দগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী পেটানোর ঘটনায় সরজমিনে তদন্ত

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পেটানোর ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সোমবার সরজমিনে   
তদন্ত করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র দাস। তদন্তকালে ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকরা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিদ্যালয় থেকে এ শিক্ষককে অপসারণের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে ছাতক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনার তদন্ত করেন। তদন্তকালে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি খালেদ হাসান, বর্তমান সভাপতি আজিজুল হক মেম্বার, সদস্য রইছ আলীসহ অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধান শিক্ষককের লাঠিপেটায় আহত ছাত্রছাত্রীরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়। আবেদনে প্রায় অর্ধশতাধিক আহত ছাত্র-ছাত্রীর নামের তালিকা দেয়া হয়েছে। তদন্তকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীদের নির্বিচারে অমানবিকভাবে পেটানোর লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। রবিবারের ঘটনার মতো প্রায়ই এ প্রধান শিক্ষক লাঠিপেটা করতো বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র দাসের কাছে নালিশ করেছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকের প্রহারে আহত স্কুলের ৪২ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা মঙ্গলবার পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষককে অপসারণের জন্যে আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় এলাকাবাসীকে নিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানান।
জানা গেছে এ শিক্ষকের পিটুনির ভয়ে বহু কোমলমতি শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা ছেড়ে দিয়েছে।
রবিবার দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান অফিস কক্ষে অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে খোশ-গল্প করার সময় ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে খেলাধুলা করছিল। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক লাঠি হাতে শিক্ষার্থীদের প্রতি তেড়ে আসেন এবং সবাইকে রুমের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে বেপরোয়াভাবে বেত্রাঘাত করে ২১ জন শিক্ষার্থীকে আহত করেন। এসময় ছাত্রছাত্রীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে তিনি দরজা খুলে দেন। এসময় অবস্থার বেগতিক দেখে অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে যান। ঘটনার পর পরিচালনা কমিটির সদস্য রইছ আলীসহ এলাকার গণ্যমান্য লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ছাতক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মানিক চন্দ্র দাসকে বিষয়টি অবহিত করেন।