বিশেষ প্রতিনিধি ও আশিক মিয়া
ব্লো-আউটের ১৫ বছর পরও টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের আশপাশের এলাকাজুড়ে গ্যাস উদগীরণ হচ্ছে। অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের অভাবে গ্যাসফিল্ডের আশপাশের কয়েক গ্রামে নানা রোগ বালাই লেগেই আছে। স্থানীয়রা নিজস্ব প্রযুক্তিতে গ্যাস উত্তোলন করে ব্যবহার করছে। কানাডিয়ান কোম্পানী নাইকো’র সঙ্গে সরকারের মামলা থাকায় গ্যাস উত্তোলনে রাষ্ট্রীয় কোন উদ্যোগ নেই। এই অবস্থায় টেংরাটিলার আশপাশের জনবসতির মানুষ বিক্ষুব্ধ ও হতাশ
২০০৫ সালের সাত জানুয়ারি রাত ১০ টায় টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে প্রথম দুর্ঘটনা ঘটেছিল। আগুনের তাপে ওই দিন গভীর রাতেই গ্যাসফিল্ডের প্রডাকশন কূপের রিগ ভেঙ্গে আগুন ২০০ থেকে ৩০০ ফুট ওঠানামা করছিল। পরে এক মাসেরও বেশি সময় জ্বলার পর আপনা-আপনিই নিভে আগুন। দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণ ঘটেছিল একই বছরের ২৪ জুন রাত ২ টায়। দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠা আগুন ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। কূপ এলাকার তিন কিলোমিটার দূরেও ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছিল। দু’দফা অগ্নিকান্ডে আশপাশের টেংরাটিলা, আজবপুর, গিরিশনগর, কৈয়াজুরি, টেংরাবাজার এবং শান্তিপুরের মানুষের ঘরবাড়ি, গাছগাছালি ও হাওরের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণের পর থেকে এক দিনের জন্যও ঐ এলাকায় বুদ বুদ করে গ্যাস উঠা বন্ধ হয়নি। বসতঘর, উঠোন, পুকুর, কৃষিজমি, টিউবওয়েলসহ সকল স্থান দিয়েই বের হচ্ছে গ্যাস। অর্থাৎ টেংরাটিলার আশপাশের বাতাস গত ১৫ বছর ধরেই দূষিত হয়ে আছে। 
টেংরাটিলার বাসিন্দা আব্দুর রহিম ও বজলুল মামুন জানালেন, এলাকার মানুষ শ^াসকষ্ট, হাপানি, চোখে জ¦ালাপুড়া ও চর্মরোগ লেগেই আছে। আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে।
সুনামগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন আশরাফুল আলম জানালেন, গ্যাসফিল্ডে বিস্ফোরণের পরের বছর থেকেই ওখানে শ^াসকষ্ট, হাপিানি ও চর্মরোগের রোগী বেড়েছে। আর্সেনিকেও আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য অফিস রোগীদের তালিকা করেছে এবং সকলকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বললেন, টেংরাটিলায় গ্যাস উড়ছে এই বিষয়টি সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জানা রয়েছে। এই নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা চলছে। মামলা নিস্পত্তি হলেই সরকার এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।
- বিশ্বম্ভরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কলেজ পর্যায়ে রূপান্তরিত হবে -পীর মিসবাহ্
- আজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী


