প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে; ফলে সাধারণ মানুষের জীবন নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এরই মধ্যে এ মাস থেকে বাড়ানো হয়েছে গ্যাসের দাম। শিল্প-কারখানাসহ গ্রাহক পর্যায়ের প্রায় সব খাতেই গ্যাসের দাম গড়ে ২২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এবার বিদ্যুতের দাম বাড়নোর ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। দুই দফায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তাদের জীবনযাত্রায় ইতোমধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এখন যদি আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় সেটা হবে জনগণের জন্য মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। বিশ্বের যেকোনো দেশে দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর জন্য কেবল জ্বালানির দাম বাড়ালেই চলে। ভেঙে ভেঙে সব বিভাগে দাম বাড়াতে হয় না। সে জ্বালানি হতে পারে পেট্রোলিয়াম, হতে পারে গ্যাস, হতে পারে বিদ্যুত। কিন্তু পেট্রোবাংলাসহ গ্যাস বিক্রেতা সরকারি কোম্পানিগুলো প্রায় প্রতিটিই লাভজনক। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে উৎপাদিত বিদ্যুত উৎপাদন ব্যয় কমেছে। তাই এ পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যৌক্তিক কোনো কারণ দেখছি না। বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে আরেক দফা জীবনযাত্রা ব্যয় বেড়ে যাবে। এটা যেমন ভোক্তাবান্ধব হবে না; তেমনি কৃষি ও শিল্পের উৎপাদনেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে। ফলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে তা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও নেতিবাচক বার্তা নিয়ে আসতে পারে। অথচ বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম কমানো হলে জনজীবনে স্বস্তি আসবে। উৎপাদনশীলতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে। গ্যাস, বিদ্যুত, জ্বালানি তেলের দামে সমন্বয়হীনতার ফলে ভোক্তা পর্যায়ে জীবনযাত্রা ব্যয় যেমন বেড়েছে, বেড়েছে অর্থনৈতিক বৈষম্য। সরকার ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি থেকে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাব। একই সময়ে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থনীতিবিদরা গ্যাস-বিদ্যুত থেকে মূল্য সংযোজন কর বা মূসক ক্রমে তুলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এর ফলে মুদাস্ফীতি কমে দেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে এর আগে হতাশা ব্যক্ত করেছেন গ্যাস ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি দেশের স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষ। আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে জাতীয় অর্থনীতি ও জনগণের বৃহদংশের জীবনযাত্রায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ জীবনযাত্রার প্রায় প্রতিটি খাতেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জনস্বার্থের সঙ্গে এ ধরনের তৎপরতা সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। জ্বালানি গ্যাস, তেল ও বিদ্যুত সভ্যতার প্রাণশক্তি। এসবের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে। তাই সার্বিক বিবেচনায় গ্যাস, বিদ্যুত, জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের ব্যাপারে সরকার সুচিন্তিত ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

