গ্রামীণ কোন্দলে বন্ধ হয়ে গেল গোবিন্দপুর নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল

শহীদ নুর আহমেদ
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের প্রথম পাতায় “গোবিন্দপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় যে কোনো সময় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা” শিরোনামে ২০১৬ সালের ১৬ই অক্টোবর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের ৩ মাসের মাথায় গ্রামীণ কোন্দল, আর্থিক ও শিক্ষক সঙ্কটে বন্ধ হয়ে গেছে সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর  গ্রামে অবস্থিত এই নি¤œমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত নভেম্বর মাসে  শিক্ষা কার্যক্রম সচল ও পরিচালনা করতে লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও গোবিন্দপুর গ্রামের স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় একটি      
আহবায়ক  কমিটি গঠন করা হলেও গ্রামের আভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম হওয়ায় নানামুখী উদ্যেগ নেয়ার পরেও বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা যায়নি বলে জানান আহবায়ক কমিটি সভাপতি ও লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ।
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ সালে গ্রামের স্থানীয়দের উদ্যেগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।  প্রতিষ্ঠাকাল থেকে গোবিন্দপুর গ্রামের ২৯ জন ব্যক্তির ওয়াকফকৃত সম্পত্তি ও জলমহালের আয় দিয়ে এই বিদ্যালয়টির অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক সম্মানি ও শিক্ষা উপকরণ ব্যয় নির্বাহ করা হত। ২৭ বছরের পুরানো এই বিদ্যালয়ের ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পাঠদান দেয়া হত। কিন্তু বছর দু’য়েক ধরে আইনী জটিলতার কারণে ওয়াকফকৃত সম্পত্তি ও জলমহালের আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যালটির তহবিল শূন্য হয়ে যায়।  এতে বিদ্যালয়ের দায়িত্বরত ৫জন শিক্ষককের সম্মানি ১৭ মাস বকেয়া থাকায় ৩ জন শিক্ষক অন্যত্র চলে যান। মোট ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬ জন এবার জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। নাজুক ও অনিশ্চিত শিক্ষা কার্যক্রমের ফলে নতুন বছর কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় কমে যায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা। অনেকেই মানসম্মত শিক্ষার গ্রহণের জন্য ভর্তি হন অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।  
এদিকে, প্রধান শিক্ষক মাসুদুর রহমান পীর অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় অচল হয়ে পড়ে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম। শিক্ষা কার্যক্রম সচল করতে গঠিত নবগঠিত আহবায়ক কমিটি বার বার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও গ্রামীণ অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সমঝোতায় আসতে পারেনি তারা। বিদ্যালয়টি আকস্মিক ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, গ্রামের নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে ঐক্য নেই। এত বড় গ্রামে অসংখ্য প্রভাবশালী ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আমার একটি মেয়ে বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীতে পড়ত।  কিন্তু এখানের শিক্ষা ব্যবস্থা ভাল না হওয়ার কারণে আমি তাকে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেছি।
লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের সদস্য মহিনুর রহমান বলেন, গ্রামের জলমহালের ১ লক্ষ টাকা মসজিদের একাউন্টে জমা রয়েছে। যা বিদ্যালয়টির উন্নয়নে ব্যয় করার কথা। কিন্তু গ্রামবাসীর সার্বজনিন উদ্যোগ না থাকায় তার সদ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তাই বিদ্যালয়ের অর্থ তহবিলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
আহবায়ক কমিটি সভাপতি ও লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, বিদ্যালটির শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে গ্রামের কিছু সংখ্যক মানুষ নিয়ে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করেছিলাম। এই কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে চালু রাখতে চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু গ্রামবাসীর মাঝে ঐক্য না থাকায় সঠিক সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। আর্থিক সঙ্কট ও প্রধান শিক্ষক অসুস্থ হওয়া বিদ্যালয়টি বন্ধ হওয়ার অন্যতম আরেকটি কারণ। তবে প্রতিষ্ঠানটি আবার চালু করতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
বিদ্যালয়টির বন্ধ হওয়ার দুই মাস পার হলেও এই তথ্য জানা নেই জেলা শিক্ষা অফিসের।
জেলা শিক্ষা অফিসার নিজাম উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়টির বর্তমান অবস্থা আমার জানা নেই। বিদ্যালয়টির ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ আমাকে কোন তথ্য জানাননি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখব।