ছাতকে গ্রামের সড়কে ব্যক্তি নামে তোরণ নির্মাণ, দু’পক্ষের বিরোধ তুঙ্গে

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে গ্রামের সড়কের মুখে তোরন নির্মাণকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। গ্রামের সড়কে ব্যক্তির নামে তোরণ নির্মাণ নিয়ে গ্রামবাসীর সাথে তোরণ নির্মাণকারী পক্ষের বিরোধের জের ধরে এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আপত্তি থাকা সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে তোরণ নির্মাণের উদ্যোগ নিলে গ্রামবাসী নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে টান-টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের সাংঘর্ষির ঘটনা ঘটার আশংকা করছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের সওজ’র সড়ক সংলগ্ন খারগাঁও গ্রামের সড়কা নির্মিত হয় কয়েক যুগ আগে। সড়কের স্বার্থে তৎকালীন সময়ে গ্রামের অনেকেই নিজের ভূমি সড়কের নামে মৌখিকভাবে দান করেছিলেন। কিন্তু সড়কের কাজে দেয়া এসব ভূমি স্ব স্ব মালিকের নামে রেকর্ড থেকে যায়। ৪ কিলোমিটারের অধিক দীর্ঘ এ সড়কে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে একাধিকবার সরকারি অর্থায়নে মাটি ভরাটসহ সংস্কার কাজ করা হয়েছে। আঁকা-বাঁকা গ্রামের এ সড়ক এখন সরকারি অর্থায়নে পাকাকরণের অপেক্ষায় রয়েছে। গত ২৯ মার্চ গ্রামের এ রাস্তার সম্মুখে আকস্মিক একটি তোরণ নির্মাণ করার উদ্যোগে নেন এক ভূমিদাতা পক্ষের স্বজন আতাউর রহমান ও তার পরিবার। গ্রামের সড়কে ব্যক্তি নামে তোরণ নির্মাণের বিষয়টি গ্রামবাসী মেনে নিতে পারেননি। এ নিয়ে আতাউর রহমানের সাথে গ্রামবাসীর বিরোধ সৃষ্টি হয়। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক একাধিকবার তোরণ নির্মাণের চেষ্টা করে গ্রামবাসীর বাধার মুখে ব্যর্থ হন আতাউর রহমান। তোরণ নির্মাণে বাধা প্রাপ্ত হয়ে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে আতাউর রহমান ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। অভিযোগে গ্রামের লোকজনকে চাঁদাবাজ উল্লেখ করে এবং ৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে তোরন নির্মাণে বাধা দিচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য ইউপি চেয়ারম্যান অদুদ আলমের নেতৃত্বে ছাতক থানায় একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, তোরণ নির্মাণের আগে ওই সড়কটি খারগাঁও গ্রামের সড়ক উল্লেখ করে গ্রামের মানুষ এ সড়ক দিয়ে আজীবন অবাধে চলাচল করতে পারবে এবং কোনদিন বাধা-বিপত্তির সম্মুখিন হবে না মর্মে একটি চুক্তিনামা করার কথা হয়েছে বৈঠকে।
কিন্তু চুক্তিনামার তোয়াক্কা না করেই ২৫ এপ্রিল আবারো তোরণ নির্মাণ কাজ শুরু করেন আতাউর রহমান পক্ষ। এতে উত্তেজিত গ্রামবাসী তোরণ নির্মাণে আবারো বাধা দেন। কিন্তু বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে জোরপূর্ব তোরণ নির্মাণ করতে চাইলে উত্তেজিত গ্রামবাসী ঘটনাস্থল থেকে নির্মাণ সামগ্রী ছুড়ে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় আতাউর রহমানের পুত্র খালেকুজ্জামান বাদী হয়ে খারগাঁও গ্রামের ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রামবাসীকে লুটপাটকারী ও চাঁদাবাজ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
গ্রামের মসজিদের মোতাওয়াল্লী, সাবেক মেম্বার ধলাই মিয়া জানান, এ সড়কে জন্য গ্রামের বহু পরিবার ভূমি দিয়েছেন। কিছু ভূমি সরকাুর অর্থায়নে ক্রয়ও করা হয়েছে। এ সড়কে কোন ব্যক্তির নামে তোরণ নির্মাণের আবদার গ্রহণযোগ্য নয়। মূল বিষয়কে আড়াল করে গ্রামের শান্তিপ্রিয় লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রামের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং প্রবাসীদেরও এ মামলায় আসামী করা হয়েছে।
গ্রামের ছালিক মিয়া, ফরিদ মিয়া, ফয়জুর রহমান আলতাব আলীসহ লোকজন জানান, গ্রামের ৪ কি.মি. দীর্ঘ সড়ক কোন ব্যক্তির একার নয়, গোটা গ্রামবাসীর। জোর করে কোন ব্যক্তির নামে তোরণ নির্মাণের চেষ্টা করা হলে গ্রামবাসী এতে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সালেহ আহমদ জানান, বিষয়টি আপোষ-নিষ্পত্তির মাধ্যমে নিরসনের চেষ্টা চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উজ্জ্বল দেওয়ান জানান, সড়কে গেট নির্মাণে দু’পক্ষের বিরোধের জের ধরে গেটের নির্মাণ সামগ্রী লুট করে নিয়ে যাওয়ায় নিয়ে থানায় মামলা হয়েছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।