গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে হবে -জেলা প্রশাসক

আকরাম উদ্দিন
কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকদের অংশগ্রহণে গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও লোকজ খেলাধূলা বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘কৃষক ও বিনোদন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ টেলিভিশন। ওইদিন সকালে সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের সর্দারপুর গ্রামের খেলার মাঠে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।
মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুল হকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান (বিপিএম), সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হক আফিন্দি, শিমুলবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জিতু, সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মইনুল হক কলেজ এর অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান, জয়নগর বাজার হাজী গণিবক্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিলু মিয়া চৌধুরী, গীতিকার শেখ এম.এ ওয়ারিশ।
অনুষ্ঠানে কুস্তি, হাডুডু, চেয়ার সেটিং, তৈলাক্ত কলাগাছ বেয়ে উঠা, নৃত্য, একক প্রদর্শনী, কবিতা আবৃত্তি, নাটক ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন,‘আউল-বাউল মরমী গানের সুনামগঞ্জ লোকজ সংস্কৃতির উর্বর জমি। গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এখানকার মানুষ খুবই আবেপ্রবণ। ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও শিক্ষার মাধ্যমে দেশের সুনাম বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে।’
তিনি বলেন,‘আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করতে হবে। আগামী বছর মুজিব বর্ষ পালন উপলক্ষে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান (বিপিএম) বলেন,‘গ্রামীণ ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, শিক্ষা ও খেলাধূলায় মানুষের শরীর মন ভাল রাখে। নির্মল আনন্দ দেয়। যুব সমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করে। মাদকমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধূলার বিকল্প নেই।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা বলেন,‘ গ্রামীণ ঐতিহ্য ও খেলাধূলা দেখতে আজ হাজারো মানুষ সমবেত হয়েছেন। বিপুল মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে এই খেলাধূলার প্রতি মানুষের গভীর মমত্ববোধ ও ভালবাসা রয়েছে।’
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে সর্দারপুর, বানীপুর, মোহনপুর, শান্তিপুরসহ বিভিন্ন স্থানের মানুষজন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেন স্থানীয় বাসিন্দা রইসুজ্জামান, সেলিম আহমদ, সাজু তালুকদার, অলিউর রহমান, আলমগীর হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের কৃষক ও বিনোদন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাকারী ও উপস্থাপক মো. রফিক রাজ। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং ইউনিয়ন পরিষদ এই অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করে। অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশনে ৬ জানুয়ারি সকাল ১০টা ৫ মিনিটে সম্প্রচার করা হবে বলে জানানো হয়।