গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষ শূন্য গ্রাম

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরের শ্রীধরপাশা গ্রামে দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রামটি এখন পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। রবিবার দুপুরে সরজমিন ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। শনিবার স্থানীয় মাদ্রাসার জমির নিলামকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৩৭ জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। পুলিশ সংঘর্ষে জড়িত থাকার সন্দেহে এ পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করেছে। এখনো মামলা হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে মামলার প্রস্তুুতি চলছে।  
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের শ্রীধরপাশা  গ্রামবাসীর সঙ্গে বিএনপি নেতা জাবেদ আলম কোরেশীর গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মামলা মোকদ্দমাও রয়েছে। গ্রামবাসির পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়  আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মালিক ও ফয়সল আহমদ।  যার জের ধরে  ঘটনার দিন স্থানীয় গ্রামের মাদ্রাসার জমি নিলামকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে বাকবিতন্ডা এরপর এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে ৩৭ গুলিবিদ্ধসহ অর্ধতাশিক ব্যক্তি আহত হন। সংঘর্ষে কয়েক রাউন্ড বন্দুকের গুলি ছোঁড়া হয়েছে। তবে উদ্ধার করা যায়নি সংঘর্ষে ব্যবহৃত অস্ত্র।
 সরেজমিন পরির্দশকালে দেখা গেছে গ্রামের চারিদিকে নিরব নিস্তব্ধতা। নেই অন্যান্য দিনের মতো মানুষের কোলাহল। সংঘর্ষের পর থেকে গ্রামের বাসিন্দারা আতংকে বসতভিটা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। গ্রেফতারের ভয়ে দিনের বেলায় হাতেগোনা কয়েকজন পুরুষকে দেখা গেছে। তবে  রাতে সে সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে বলে গ্রামের কয়েকজন জানিয়েছেন। বর্তমানে গ্রামের বেশিরভাগ বাড়িতে নারী ও শিশুরাই শুধু অবস্থান করছেন। তাদের চোখে-মুখেও রয়েছে আতংকের ছাপ। এলাকাজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
স্থানীয় কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হাসিম জানান, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শনিবার সংঘটিত ্য সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতার আতংকে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে লোকজন।’ নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয় সে দিকে পুলিশ প্রশাসনকে সজাগ থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
জগন্নাথপুর থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী জানান, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুুতি চলছে। এরই মধ্যে ১০ জন কে আটক করা হয়েছে।’