‘ঘরও ওঠতে আরও একমাস যাইবো’

বিশেষ প্রতিনিধি
গত দুই দিন বৃষ্টি না হওয়ায় একই সঙ্গে উজানেও কম বৃষ্টি হওয়ায় বন্যার পানি ধীরগতিতে কমছে। লাগাতার তিন দফা বন্যা হওয়ায় এবারের পানি নামতে বিলম্ব হচ্ছে। নদী, খাল, হাওর দফায় দফায় বন্যায় টইটুম্বুর হয়ে আছে, পানি সরার জায়গা নেই। এ কারণে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন সুনামগঞ্জবাসী। কার কারও ধানের ভাড়ারেও লেগেছে পানি। তিন দফা বন্যায় সরকারিভাবে বলা হয়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ১২ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেসরকারি নানা মাধ্যমে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলা হচ্ছে।
দিরাই উপজেলার রাজানগরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার বললেন, দিনে এক দেড় ইঞ্চি কইরা কমের পানি, যে পানি অইছে, ৮-১০ দিন লাগবো পানি কমতে কমতে। পানি নামলেও আরও ১৫ দিন থাকবো ভোগান্তি।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের নোয়াগাঁওয়ের চাঁনপুল বেগম বললেন, ঘরও কোমর সমান পানি আছিল, উগারও লাগিগেছিল পানি, কিছুও ধান ভিজছে, গরু ঘর পড়িগেছে, রান্ধার ঘরও পড়িগেছিল, বড় ঘরখান কোনলাখান দাঁড়াইয়া আছে, গরু নাও (নৌকা) দিয়া পাঠাইছি পাথারিয়ার শ্যামনগর বাপের বাড়ি, ধান পান মালামাল সবতা লইয়া ইস্কুলও ওঠছি।’
একই গ্রামের নূর ইসলাম বললেন,‘অখনো আাটু (হাটু) পানি আছে ঘরও, ২ দিনে মাত্র ৩-৪ আঙ্গুল পানি কমছে। লামা বায়দি পানি টানে না, ইতার লাগি পানি কমের না। ঘরের ভেড়া-গুড়া পড়িগেছে। পানি না কমলে ঘরের বেড়া-গুড়া বান্ধন যাইতো নায়, ঘরও ওঠন যাইতো নায়, উগারের ধানও পানি লাগছিল, ধান ইস্কুল আইন্না হুকায়রাম (শুকানো)। গরু বাছুরসহ পরিবারের সবরে লইয়া ইস্কুল আছি।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ডুংরিয়া (উত্তর কান্দা) গ্রামের সেরুল আমিন বললেন, ‘ঘরও অখনো ঘণ্টা পানি, ঘর থাকি পানি নামলেও তিনবার পানি ওঠায় ঘরের বেড়াগুড়া-পালাটালা সব পচি গেছে। ঘরও ওঠতে এক মাস লাগবো।’
আব্দুস সাত্তার, চাঁনপুল বেগম, নূর ইসলাম ও সেরুল আমিনের অবস্থা কেবল এমন নয়। সুনামগঞ্জের বন্যা কবলিত ১১ উপজেলার গ্রমাঞ্চলের মানুষের একই চিত্র।
ঘর থেকে পানি না নামায় এখনো ১২৫ টি গরু এবং ১৪৫ টি ছাগলসহ গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে চার হাজার ৩৯৮ টি পরিবার ৩৬৭ টি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকছেন। কাছা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেকে পরিবার-পরিজনসহ চলাচলের সড়কে তাবু টানিয়ে মানবেতরভাবে আছেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানিয়েছেন, তিন দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৯১৮ মে.টন চাল, ৫১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ৩৬ শ’ শুকনো প্যাকেটসহ শিশু ও গোখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।