স্টাফ রিপোর্টার
খাইক্কারপাড় গ্রামের ৮ সন্তানের জননী সিতারা বেগম। স্বামী দিন মজুর। জাঙ্গালে খুপড়ি ঘর করে বসবাস করতেন। এবার শেখ হাসিনার উপহার পাকা ঘর পেয়েছেন তিনি। কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় ঘরে উঠে গেছেন। তার ঘরটির দুই দিকেই পানি। পড়ন্ত বিকেলে দুর্গম হাওরের পাড়ে তৈরি এই দুই কক্ষের লাল সবুজ রঙা পাকা ঘরটির ছায়া দেখার হাওরের স্থির জলে দেখতে অন্যরকম লাগছিল। সিতারা বেগম বলেন, ‘৮ জন বাইচ্চা-কাইচ্চা লইয়া বড় হেরানো আছলাম। এখন ঘর পাইয়া শান্তিতে বাইচ্চাইনরে লইয়া আছি। তিনি বলেন, ‘আমরা গরিবের জন্য শেখ হাসিনার রহমত হামাইছে। তাই আমরারে পাকা ঘর খইরা দিছইন। আল্লায় তাইনের হায়াত বাড়াইয়া দিবেন’।
এভাবেই মুজিব জন্মশত বর্ষে ভূমিহীন-গৃহহীণদের দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ভূমিসহ পাকা ঘর পেয়ে কতৃজ্ঞতা প্রকাশ করেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওরপাড়ের খাইক্কারপাড় গ্রামের সিতারা বেগম। তার মতো এই উপজেলার ২৫১ ভূমিহীন পরিবার ঘর পেয়ে বেজায় খুশি। দিন আনে দিন খায় এসব পরিবারের হতদরিদ্র মানুষজন ভূমিসহ পাকাঘর সরকারের পক্ষ থেকে উপহার পাবেন এটা স্বপ্নেও ভাবেননি। তাই তাদের চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিকের সঙ্গে সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতাও।
সরেজমিন বৃহষ্পতিবার দুপুরে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার খাইক্কারপাড় ও একই উপজেলার নবীনগর গ্রামে গিয়ে উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে কবুলিয়ত দলিল পাওয়ার আগেই তারা ঘরে উঠে গেছেন। বসবাস করছেন পরিবার পরিজন নিয়ে। খাইক্কারপাড় সুনামগঞ্জ সিলেট সড়কের শহিদ তালেব সেতুর (আসানমারা সেতু) খাড়া পূর্ব দিকের একটি গ্রাম। দুই দিকেই দেখার হাওরের বিস্তার। মাঝের কান্দায় গড়ে ওঠেছে গ্রামটি। এক সময় গ্রামের মাথায় হাওরের সুস্বাদু মিঠাপানির খাইক্কা বা কাকিলা মাছ প্রচুর পাওয়া যেতো। এ কারণেই গ্রামের নামকরণ হয় খাইক্কারপাড়। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই হতদরিদ্র ও ভূমিহীন। দীর্ঘদিন ধরে তারা জাঙ্গালে হাউরের ঢেউ-জল-বাতাসের দাপট সহ্য করে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন। এই গ্রামের হতদরিদ্র ও দিনমজুর ভূমিহীন ৬২ টি পরিবারকে বাছাই করে মুজিবর্ষের উপহার পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এভাবে উপজেলার অন্যান্য গ্রামের সুবিধাভোগীদেরও বাছাই করা হয়েছে। তাদের ঘরগুলোও প্রস্তুত। সপরিবারে সেসব ঘরে উঠে গেছেন অনেকে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে উপজেলায় মুজিব বর্ষের উপহার হিসেবে প্রথম দফায় ২৫১ টি ঘর প্রদান করা হয়েছে। আজ রোববার আরও ১০ টি ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হবে।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের পরামর্শে স্বচ্ছভাবে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা করেন স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা। নানা প্রতিবন্ধকতা দূর করে ইতোমধ্যে টানা কাজ করে লাল সবুজ রঙের দুই কক্ষ বিশিষ্ট টিনশেড পাকা ঘর এখন দৃশ্যমান।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কাইক্কারপাড় গ্রামের হাবিবুর একজন মৎস্যজীবী। হাওরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি ও একটি ঘর পেয়েছেন। সেখানে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, ‘আমার জাগা-বাড়ি কুন্তা আছিলনা। এখন ঘর দুয়ার পাইছি। জাগা পাইছি। আমি খুব খুশি।’ একই গ্রামের হতদরিদ্র আয়াতুন নেসা বলেন, ‘ গরোর লাগি খতো ঝরি, তুফান খাইছি। অনে শেখ হাসিনায় সুন্দর একটা ঘর দিছইন। আল্লায় তাইনরে বালা রাখবা’। এভাবে শেখ হাসিনার উপহার পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন সুবিধাভোগীরা।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন ভূয়া বলেন, দ্বিতীয় দফা ঘরগুলো প্রস্তুত করতে মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে আমরা অক্লান্ত কাজ করেছি। এখন সবগুলো ঘর প্রস্তুত। সুবিধাভোগীদের সবাই ঘর পেয়ে খুশি।


