স্টাফ রিপোর্টার
করোনা সংকট ও দীর্ঘ লকডাউনে লোকসান গুনেছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুটির শিল্প, ক্ষুদ্র্র, ছোট ও মাঝারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। চলতি বছর দুটি ঈদ আর একটি নববর্ষ গেছে বাণিজ্যহীন। যে উৎসবকে ঘিরে এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের বেচাকেনা বেশি হয়ে থাকে সেটি এবার হয়নি। ফলে অনেক উদ্যোক্তাই তাদের পুঁজি হারিয়েছেন। এখন আবার তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনায় লকডাউনসহ বিধিনিষেধ কমে আসায় ব্যবসায়ীদের মাঝে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। জেলা শহরসহ উপজেলা শহরের বিপণি বিতানগুলোতে ধীরে ধীরে প্রাণের সঞ্চার হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধ থাকলেও সেসব মানা হচ্ছে না।
দিরাইয়ের তন্ময় দেবের চায়ের দোকান আছে মল্লিকপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। এই ব্যবসা দিয়েই সংসারের হাল ধরেছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে লকডাউন শুরু হলে বন্ধ করে দিতে হয় দোকান। ৮ সদস্যের পরিবার নিয়ে বেশ বিপাকেই পড়েন তিনি। লকডাউন শেষে ফের খুলেছেন দোকান। কিন্তু গেলো দুই মাসেও বেচাকেনা আগের মতো হয়নি। এখন সংসার চালাতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন এই দোকানি।
তিনি বলেন, করোনা যে ক্ষতি করেছে তা ৫ বছরেও পুষিয়ে নেয়া সম্ভব না। এখন দোকান খুললেও আগের মতো বেচাকেনা নেই। দোকান বন্ধ থাকাকালীন সময়েও ভাড়া দিয়েছি। বড় বড় ব্যবসায়ীরা সরকারি প্রণোদনা পেলেও আমাদের মতো ছোট দোকানিরা কোনো সহযোগিতা পাইনি।
শুধু তন্ময় দেব নয়, তার মতো কয়েক হাজার ক্ষুদ্র দোকানি ও ব্যবসায়ী সুনামগঞ্জে এখন টিকে থাকার লড়াই করছেন কোনো ধরনের সহযোগিতা ছাড়াই।
জামালগঞ্জ উপজেলার ইলেক্টনিক যন্ত্র ব্যবসায়ী মো. আব্দুল বাসিতও বলেন,
করোনাকালীন বন্ধে প্রায় আড়াই লাখ টাকা লোকসান গুণেছেন তিনি। লকডাউনে আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে চলেছেন। এখন আবার দোকান খুলেছেন। চেষ্টা করছেন ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার। কিন্তু আগের মতো ব্যবসা নেই। ফলে ধার-কর্জ শোধ দিতে পারেননি।
শহরের নেজা প্লাজার দোকানী মো. শাহজাহান বলেন, অনেক মানুষের কাছ থেকে শুনেছি সরকার ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করতে অল্প সুদে ঋণ ও প্রণোদনা দিয়েছে। আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সেসব এখনো পাইনি। এই করোনা ভাইরাসের কারণে আমার ৭ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। দোকান খুলেছি, সবাই দেখছেন ভালো আছি কিন্তু আমরা অনেক ঋণগ্রস্ত। আগের অবস্থায় যেতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি খায়রুল হুদা চপল বলেন, কোভিডের প্রভাব অর্থনীতির সব খাতেই পড়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাবও পড়েছে সমানভাবে। জনমনে আতঙ্ক কেটে যাওয়ায় মানুষ আবারও কর্মমুখী হয়েছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোও খুলেছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের নানামুখী উদ্যোগও অনেকটা কাজে এসেছে। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও আবার নতুন করে জেগে ওঠছেন। অনেকে পারছেন না। এর মধ্যে যারা পুঁজি হারিয়েছেন, তারাও নতুন করে ব্যবসা চালুর চেষ্টা করছেন। আশা করছি, সরকারের সহায়তায় সবাই ভালো অবস্থানে ফিরবেন।
- দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা সাব রেজিস্টারের মৃত্যু
- স্বাস্থ্যবিভাগে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ


