বিশেষ প্রতিনিধি
নিলামের বালুর অজুহাতে তাহিরপুরের মাহারাম নদী থেকে কোটি কোটি টাকার বালু তুলে বিক্রয় হচ্ছে। বারকী শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদাও তোলা হচ্ছে। তাতে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবশ্য বলেছেন, নদী থেকে বালু তুলতে পারছে না কেউ, মঙ্গলবার কিছু নৌকা বালু ওঠানোর চেষ্টা করেছিল, খবর পেয়ে লোকজন পাঠিয়ে তাদের তুলে দেওয়া হয়েছে।
তাহিরপুরের সীমান্ত নদী মাহারাম বালুময় অবস্থায় রয়েছে। সরকারকে রাজস্ব না দিয়েই ওখান থেকে হাজার হাজার ফুট বালু তুলে বিক্রয় করছে কিছু বালু খেকোরা। টাস্কফোর্সের অভিযানে সম্প্রতি অবৈধভাবে উত্তোলন করা কিছু বালু জব্ধ করা হয়। পরে ১২ লাখ ১২ হাজার ৫শ’ টাকায় এই বালু নিলামে বিক্রি করা হয়।
গত ২৮ আগস্ট এই বালু প্রকাশ্যে নিলামে কিনেন মাহারাম নদীরপাড়ের শান্তিপুরের ফজলুল হক। ফজলুল হক স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুক মিয়ার আত্মীয়। ১৭ টি স্তুপের এই বালু ফজলুল হক নিলামে কিনলেও এখনো ক্ষমতাপত্র পাননি তিনি। নিলামের শর্তে রয়েছে টাকা জমা দেবার পর ক্ষমতাপত্র পাবেন তিনি। ক্ষমতাপত্র পাবার এক মাস ১৪ দিনের মধ্যে বালু সরিয়ে নেবার কথা। নিলাম গ্রহিতা ফজলুল হক ক্ষমতাপত্র না পেলেও মাহারাম রাখে বালুর স্তুপ কেবল নয়। পুরো নদীই যেন দখলে রেখেছেন তিনি ও স্থানীয় উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুক মিয়ার লোকজন।
মঙ্গলবার ভোরে কয়েকশ’ নৌকা মাহারাম নদীতে ঢুকিয়ে বালু বিক্রি করেছে তারা। বারকী শ্রমিকদের কাছ থেকে প্রতি ফুটে পাঁচ টাকা চাঁদা নিয়েছে নিলাম গ্রহিতার লোকজন। খবর পেয়ে প্রশাসনের লোকজন আসলেও এর আগেই এই দিনের বালু তোলা শেষ হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার কমপক্ষে ৫০ হাজার ঘনফুট বালু তুলে বিক্রি করেছে তারা।
স্থানীয় একাধিক বালু শ্রমিক জানিয়েছেন, ফজলুল হক কেবল নামেই নিলাম গ্রহিতা। উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুক মিয়াই এর নিয়ন্ত্রক। শ্রমিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রতিদিন ভোর রাত তিনটা থেকে বালু উত্তোলন ও বিক্রয় শুরু হবে। চলবে সকাল আট টা পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রশাসনের লোকজন আসার আগেই কাজ সারা।
উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাহারাম নদীর টানের অংশের বালু নিলাম নেওয়া হয়েছে। নীচের অংশ থেকে বালু তুলে বিক্রয় করার কথা সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিনসহ অনেকেই জানিয়েছেন আমাকে। তিনি জানান, বালু শ্রমিকদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, প্রতি ঘনফুট বালুতে পাঁচ টাকা করে চাঁদা দিতে হচ্ছে ফজলু, কিবরিয়া, মিস্টার, শিবলু ও দীন ইসলামকে।
উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া বললেন, আমার আত্মীয়-স্বজন বা আমার কোন লোক অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রয় করতে যায় নি। নিলাম গ্রহিতা ফজলুও নদীতে যান নি। অন্য কিছু মানুষ চুরি করে বারকী নৌকায় বালু উত্তোলন করে বিক্রি করেছে শুনেছি। চুরি করে প্রায়ই কিছু বালু বিক্রয় হয়। চাঁদা নিয়ে ৫০ হাজার ঘনফুট বালু বিক্রয়ের কোন ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির বললেন, মাহারাম নদীর জব্দকৃত বালু নিলামে বিক্রয় হয়েছে। নিলাম গ্রহিতা টাকাও জমা দিয়েছেন। এখনো ক্ষমতাপত্র দেওয়া হয় নি। শীঘ্রই ক্ষমতাপত্র দেওয়া হবে। ক্ষমতাপত্র দেবার পর এক মাস ১৪ দিনের মধ্যে নিলামের বালু সরাতে হবে। মাহারাম নদীতে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রির সুযোগ নেই। আমাদের লোকজনের মনিটরিং আছে ওখানে। মঙ্গলবার কিছু বারকী নৌকা নদীতে ঢুকে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করেছিল। খবর পেয়ে ওখানে গিয়ে বারকী শ্রমিকদের নদী থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে।


