চামরদানী ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ- তদন্তস্বাপেক্ষ ব্যবস্থা নিন

একজন ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এত এত অভিযোগ থাকতে পারে তা কল্পনাও করা যায় না। অভিযোগকারীরা ফেলনা কেউ নন। তারই পরিষদের নির্বাচিত সদস্য-সদস্যা এই অভিযোগকারীরা। কী অভিযোগ করেছেন তারা নিজেদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে? লম্বা ফিরিস্তি। সংক্ষেপায়ন করলে যা দাঁড়ায় তা এরকমÑ ১। বিনা নোটিশে সভা ডাকা ২। ইউনিয়ন পরিষদের সভা রাতে করা ৩। ইউপি সদস্যদের লাঞ্ছিতকরণ ৪। সভার কার্যবিবরণী সদস্যদের মধ্যে বিতরণ না করা ৫। ভিজিডি কার্ড বিতরণে ২২৬ জনের নিকট থেকে ২ হাজার করে টাকা নেয়া ৬। পরিষদের নামে আসা কম্বল ও দোম্বার মাংস বিতরণ না করে আত্মসাৎ ৭। ইউপিজিপি ও এলজিএসপি প্রকল্পের বরাদ্দ কাজ না করিয়ে আত্মসাৎ ৮। মাটির রাস্তা ও রিংস্ল্যাবের বরাদ্দের ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ ৯। সারাকোনা গ্রামের নদীতে অবৈধভাবে খেয়াঘাট সৃজন করে অর্থ আদায় ১০। কর্মসৃজন প্রকল্পের বরাদ্দ আত্মসাৎ ১১। বিভিন্ন দিবস পালনের নামে চাঁদাবাজি ১২। গত ১৭ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে অসদাচরণ ১৩। নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ ইত্যাদি। এইসব অভিযোগনামা জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করেছেন ধর্মপাশা উপজেলার চামরদানি ইউনিয়ন পরিষদের ৯ সদস্য। একইসাথে এইসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁরা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নিজেদের অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। একটি নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগনামা দুর্ভাগ্যজনক।
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান এইসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তিনি একে নিজের বিরুদ্ধে কতিপয় সদস্যের হয়রানি হিসেবে দেখছেন। কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই যেমন দুনিয়া অন্ধকার হয়ে যায় না তেমনি অভিযুক্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেই তার ভিতরের সারবত্তা হারিয়ে যায় না। যেসব অভিযোগ ইউপি সদস্যরা লিখিতভাবে উপস্থাপন করেছেন সেগুলো তদন্তস্বাপেক্ষ। তদন্তে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যানকে দোষী বলার কোন অবকাশ নেই। কিন্তু আনীত অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু এবং শক্তিশালী তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ কাম্য। এরকম অভিযোগের ক্ষেত্রে ধামাচাপা কিংবা যেকোনভাবে অভিযোগকারীদের ম্যানেজ করে ফেলার প্রবণতা অতীতে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে দেখে এসেছি। এক্ষেত্রেও এমনটি ঘটবে না, এরকম চিন্তা ঝেরে ফেলা যায় না। কারণ হলো আমাদের সিস্টেমটিই এমন যে, এখানে অভিযুক্ত কিংবা অভিযোগকারী সকলেই নানাভাবে প্রভাবিত হয়ে পড়েন। চামরদানী ইউনিয়নের যে ৯ সদস্য গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন তাদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে, এখন নৈতিকভাবে সেগুলো প্রমাণ করার দায়িত্বও তাদের। এটি না করলে তারা সকলের চোখে শ্রদ্ধা হারাবেন। ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে জেলা প্রশাসকের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সুতরাং এখানে জেলা প্রশাসক কিংবা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালকের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য তদন্ত পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ। তাঁদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, কোন ধরনের সময় নষ্ট না করে আনীত অভিযোগগুলোর তদন্ত পরিচালনা করুন এবং তদন্তের ফলাফল গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনসন্মুখে তুলে ধরুন। এরকম প্রক্রিয়ায় অপরাপর ক্ষেত্রগুলোতে দুর্নীতিপ্রবণতা কমে আসবে।
আমরা যেমন কোন নির্দোষ ব্যক্তির বিন্দুমাত্র সম্মান হানি কামনা করি না তেমনি কোন দোষী ব্যক্তিও যাতে রেহাই না পায় সেটিও সকলের সাধারণ প্রত্যাশা।