ধর্মপাশা প্রতিনিধি
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে ধর্মপাশা উপজেলায় হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতকাজ শেষ করার চার মাস পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দকৃত চূড়ান্ত বিল পায়নি সংশ্নিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)। বিল না পেলেও ধারদেনা করে যথা সময়ে কাজ শেষ করতে হয়েছে পিআইসি সংশ্লিষ্টদের। এতে প্রতিটি পিআইসির সদস্যরা বিপাকে পড়েছেন। পাওনাদারের ভয়ে পিআইসির অনেক সদস্য পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
২০২০-২১ অর্থ বছরে ধর্মপাশা উপজেলার আটটি হাওরে বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের জন্য স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে ১৭০টি পিআইসি গঠন করা হয়। কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী গত বছরের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাঁধের কাজ শুরু করে তা এ বছরের ২৮ ফেরুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম ২২ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ সফরে এসে হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করে কাজের সময়সীমা ৭ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছিলেন। আর এসব কাজে ১৭০টি প্রকল্পের বিপরীতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ৩৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। কাজ শেষে প্রতিটি পিআইসিকে চতুর্থ বা চূড়ান্ত বিল পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু কাজ শেষ করার চার মাস পেরিয়ে গেলেও বুধবার পর্যন্ত তা পরিশোধ করা হয়নি। কবে তা পরিশোধ করা হবে, তা পিআইসিগুলোর কাছে অজানা। গেল বছরও কাজ শেষ করার সাত মাসেরও বেশি সময় পর চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হয়েছিল।
চন্দ্রসোনারথাল হাওরের ৯৭ নং প্রকল্পের সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘অনেক চাপের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে গিয়ে ধারদেনা করে করতে হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত বিল না পাওয়ায় সবার মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।’
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ধর্মপাশা উপজেলার সদস্য সচিব চয়ন কান্তি দাস বলেন, ‘প্রান্তিক কৃষকদের নিয়ে গঠিত পিআইসির সদস্যদের কাছে বাঁধের কাজ করানোর মতো টাকা জমা থাকেনা। অনেকেই বিল উত্তোলন করে কাজ করে থাকেন। কিন্তু চূড়ান্ত বিল পাওয়ার জন্য পিআইসিকে কাজ শেষ করতে হয়। ফলে পিআইসিকে ধারদেনা করতে হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পরও চূড়ান্ত বিল না পাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক।’
কবে নাগাদ চূড়ান্ত বিল পাওয়া যেতে পারে তার কোনো আভাস নেই বলে জানিয়েছেন ধর্মপাশা উপজেলার দায়িত্বে থাকা সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন।
এদিকে উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি ইউএনও মুনতাসির হাসান বলেন, ‘পিআইসির চূড়ান্ত বিলের জন্য উপজেলা থেকে জেলা হয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব পাস হওয়ার পর বরাদ্দ আসলেই পিআইসিকে চূড়ান্ত বিল প্রদান করা হবে।’


