আকরাম উদ্দিন
দীর্ঘ চার মাসেও উন্নয়ন কাজ শেষ হয়নি শহরের নবীনগর এলাকার সড়কের। এই কারণে প্রতিদিন কুরবাননগর ও সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের তিন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ শহরে আসা—যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বৃষ্টিপাতের আগেই দ্রুত সড়কের উন্নয়ন কাজ শেষ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
গত প্রায় চার মাস আগে এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে শহরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আমিনুল হক এন্ড কোং ৪৯০ মিটার দৈর্ঘে্যর নবীনগর সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু করে। কিন্তু এই উন্নয়ন কাজ এখনও চলমান রয়েছে। এতে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চলাচলকারীরা।
স্থানীয়রা জানান, নবীনগরে উন্নয়ন কাজের শুরুতেই বাঁশ ও পাকা পিলার দিয়ে আড়াআড়ি সড়কে বাঁধ নির্মাণ করে মানুষ ও যান চলাচল বন্ধ করা হয়। মানুষ জরুরি প্রয়োজনে যখন এসব উপড়ে ফেলে সড়কে চলাচল করতে শুরু করে, তখন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পাকা দেওয়াল নির্মাণ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এমন অবস্থায় মানুষ চলাচলের সুবিধার্থে গাড়ির চালকেরা বিকল্প যাতায়াত সড়ক হিসাবে নদীরপাড়ের ফসলরক্ষা বাঁধ ব্যবহার করে আসছেন। ফসলরক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে বৃষ্টির দিনে মারাত্মক ঝঁুকি নিয়ে যানবাহনে চলাচল করতে হয়। এভাবে চলাচলে প্রায় সময় দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে। মালামাল, রোগী, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে এই ফসলরক্ষা বাঁধের সড়কের উপর দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। এই ব্যস্ত সড়কে জনচলাচল বন্ধ করে দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন কাজ করার এমন দৃষ্টান্ত কোথাও নেই বলে জানান এলাকাবাসী।
নবীনগর সড়ক নির্মাণে নদীর উত্তরপাড়ের সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মানুষ ফসলরক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়ে চলাচল করার অস্থায়ী উপায় হলেও কুরবাননগর ইউনিয়নের ধারারগাঁও, কাইমতর, গোধারগাঁও এবং রঙ্গারচর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ শহরে আসা—যাওয়ায় পড়েছেন মারাত্মক বিপাকে। এ ছাড়াও নবীনগরের স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছেন।
নবীনগরের বাসিন্দা রহিম উদ্দিন বলেন, নবীনগর সড়কের ভাঙাগড়া এ জীবনে শেষ হবে না। এই সড়কের কাজ একেবারে শেষ হলে বাণিজ্যও বন্ধ হয়ে যাবে। এই জন্য শেষ হবে না অর্থাৎ ভাল কাজ হবে না।
সালেহা খাতুন বলেন, সড়কের কাজ শুরু হতেই ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। সড়কে চলাচল তো দুরের কথা। শুধুই মানুষের ভোগান্তি। কয়দিন পর আবারও সড়ক ভেঙে যাবে। ঠিকাদার টাকা হালাল করতে এমনভাবে কাজ শুরু করেছেন।
নদীর উত্তরপাড়ের ব্যবসায়ী জহির হোসেন বলেন, নবীননগর সড়কের কাজ নয় যেন হাজারো মানুষের চরম ভোগান্তি। কাজের নির্ধারিত সময় বেঁধে না দেয়ায় এবং উন্নয়ন কাজের তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড ঝঁুলিয়ে না রাখায় কথাও বলতে পারছেন না কেউ। এই কারণে দীর্ঘদিন ধরে এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মানুষ।
ভৈষারপাড় গ্রামের নাজিম উদ্দিন বলেন, নবীনগর সড়কে উন্নয়ন কাজ করার সময় প্রতিবছর হাজারো চলাচলকারী ভোগান্তির শিকার হন। কাজের শেষে কয়েকদিন পর আবারো ভেঙে যায় সড়ক।
হালুয়াঘাটের ব্যবসায়ী তানভীর আহমদ বলেন, নবীনগর সড়কের কাজ শুরু হওয়ায় এখন শহরে আসা—যাওয়া বাদ দিয়েছি। চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি হয়। সড়কের কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করা উচিৎ।
ধারারগাঁও গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবু তাহের বলেন, নবীনগর সড়কে একাধারে কাজ করলে সর্বোচ্চ এক মাস লাগবে। কিন্তু সেখানে অন্তত চার ধরে কাজ চলছে। এখনও শেষ হচ্ছে না। কাজের শুরুতেই সড়ক বন্ধ করে মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলেছে ঠিকাদারের লোকজন। সরকারি জনচলাচল সড়ক এভাবে বন্ধ করা উচিৎ নয়।
কুরবাননগর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম বলেন, নবীনগর সড়কের মেরামত কাজ শুরু থেকে মানুষের ভোগান্তি চরমে। উন্নয়ন কাজ দীর্ঘ হওয়ায় নদীর দুইপাড়ের কয়েক হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছেন। শিশু, রোগী, বয়স্করা, চাকুরিজীবীরা এবং শিক্ষার্থীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ঠিকাদার আবুল হোসেন বলেন, নবীনগর সড়কের কাজ আমরা সপ্তাহ দশ দিনের মধ্যে শেষ করতে পারবো। মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে এটা আমাদের চিন্তায় আছে। তবুও সড়কের কাজ সঠিকভাবে করতে একটু সময় লাগছে। সকলের কষ্ট হলেও সহযোগিতা করবেন এমন প্রত্যাশা আমাদের।
সদর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, নবীনগর সড়কের কাজ দ্রুত চলছে। আগামী পনের দিনের মধ্যে সড়কের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হবে।


