বিশেষ প্রতিনিধি
হাওরে ধানের দাম ৬শ’ থেকে ৭ শ’ টাকা মণ (৪০ কেজি) কিন্তু বাজারে চালের দাম প্রতি বস্তা (৫০ কেজির বস্তা) ২২ শ’ থেকে তিন হাজার টাকা। ধান-চালের এই দামের ফারাকে ক্ষুব্ধ কৃষকরা। কৃষকরা বলেছেন, করোনার লকডাউনের অজুহাত দেখিয়ে মিলাররা সিণ্ডিকেট করেছে, তারা (মিলাররা) মনে করে বিপাকে থাকা কৃষকরা টাকার প্রয়োজনে এই সময়ে ধান ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করতেই হবে।
শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস ছাত্তার একজন বড় কৃষক। মঙ্গলবার এই কৃষক ৫০ মণ ধান খলা থেকেই বিক্রি করেছেন। কিছু ধান মিটার দিয়ে মেপে ৬৫০ টাকা এবং কিছু পাল্লা দিয়ে মেপে ৭০০ টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি। বললেন, ধান কাটার শ্রমিকরা এখন আর ভাগে ধান কাটতে চায় না, নগদ টাকা দিতে হয়, আমার মতো বড় কৃষকের কাছেই টাকা ইেন, ছোট কৃষকদের কাছে থাকবে কীভাবে, মিলাররা এসব বুঝে, এজন্য সিণ্ডিকেট করে তাদের ফড়িয়াদের বুঝিয়ে দেয় কম দামে ধান কেনার জন্য,’
তিনি বলেন, দেশের কোথাও ধান চালের ট্রাক বন্ধ নেই। অথচ. মিলারদের ফড়িয়ারা বলছে ট্রাক বন্ধ, এখন ধান কেনা যাবে না, কৃষকরা বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করছে ধান, আব্দুছ ছাত্তারের মতে ধানের দাম প্রতি মণ ৮০০ টাকা হলে কৃষকদের জন্য ন্যায্য দাম হতো।
শাল্লার কুরারপাড়ের কৃষক কল্যানব্রত চৌধুরী বললেন, ধান বিক্রি না করলে শ্রমিকের টাকা মেঠানো যাবে না, এজন্য হীরা জাতের ভেজা ধান বুধবার ৬০০ টাকা এবং শুকনা ধান প্রতি মণ ৭০০ টাকায় মিটারে মেপে বিক্রি করেছি।
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ধানের আড়ৎ মধ্যনগরে বুধবার ২৮ জাতের শুকনা ধান ৮৬০ থেকে ৯২০ টাকা এবং হীরা ধান ৭৬০ থেকে ৭৭০ টাকা মণে ধান কিনেছেন আড়ৎদাররা। এই মোকামের আড়ৎদার সমিতির সভাপতি জহিরুল হক বললেন, গেল এক সপ্তাহ হয়, প্রতিদিন এই মোকামে ১৫-২০ হাজার মণ ধান কেনা হয়েছে। পানি বাড়লে নৌ-চলাচল শুরু হলে ধানের বেছা কেনা বাড়বে বলে জানালেন তিনি।
দিরাইয়ের রাজাপুরের কৃষক আব্দুস ছাত্তার বললেন, সরকারি ভাবে ধান কেনা শুরু হলে ফড়িয়ারা ধানের দাম বাড়াতে বাধ্য হতো।
সুনামগঞ্জের বৃহৎ অটো রাইস মিলের মালিক আবুল কালাম বললেন, নতুন চালের দাম তাদের মিলে ৫০ কেজির বস্তা এক হাজার নয়’শ থেকে দুই হাজার টাকা, তবে সিদ্ধ চালের দাম একটু বেশি, মিলাররা ধান কিনে এখনো সিদ্ধ চাল করতে পারেন নি। এছাড়া এলসি’র চাল অর্থাৎ আমদানী করা চাল বা পুরাতন চালের দাম একটু বেশি বলে জানান তিনি। ধান কিনতে কোথাও সিণ্ডিকেট আছে বলে জানা নেই তার।
সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য কর্মকর্তা নকিব সাদ সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় সরকারের ধান কেনার সিদ্ধান্তের বিষয়ে কিছুই জানা যায় নি। একজন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার জানা মতে এখনো জাতীয়ভাবে খাদ্য শস্য পরিধারণ ও মূল্যায়ন কমিটির সভা হয় নি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ফরিদুল হাসান জানিয়েছেন, এবার এই জেলায় ধানের ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদন বেশি হবে। সুনামগঞ্জে এবার তিন লাখ ২৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে ধানের চাষাবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রা মোতাবেক উৎপাদন হলে কেবল সুনামগঞ্জ নয়, সারাদেশের খাদ্য চাহিদা মেঠাতে ভূমিকা রাখবে এই জেলা।


