বিশেষ প্রতিনিধি
আমন জমিতে সারের ব্যবহার শুরু হতেই সুনামগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে সারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন কিছু কিছু ডিলার। সরকার নির্ধারিত ১১শ’ টাকা মূল্যের ইউরিয়া সার বেশিরভাগ ডিলারই ১২শ’ টাকায় বিক্রি করছেন। মনিটরিং জোরদার না হলে, ভরা মৌসুমে দাম আরও বেড়ে যাবার আশংকা করছেন কৃষকরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের দায়িত্বশীলরা অবশ্য বলেছেন, সারে মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে, অনিয়মের বা বেশি দাম নেবার সুযোগ নেই।
আমন ধানের ২১ দিনের চারা রোপণ করতে হয় জমিতে। ভাদ্র মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে চারা রোপণ শেষ করতে পারলে ফলন ভালো হয়। এবার বৃষ্টি কম হওয়ায়, খরায় অনেক জমি শুকিয়ে যায়। গেল এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি হওয়ায় চাষাবাদে নেমেছেন আমন চাষীরা। বেশি দিনের চারা রোপণ করায় ভালো ফলন পেতে হলে সার দেওয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই। এজন্য কৃষকরা আগে ভাগেই ছুটছেন সারের ডিলারের কাছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের নুরুল্লা গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম তার ১০ একর আমন জমির পাঁচ একর নিজে চাষাবাদ করছেন। ফলনের আধাআধি দেবার চুক্তিতে পাঁচ একর বর্গা দিয়েছেন। বললেন, ‘ইবার আমনের ফলন ভালা অইবো। জমিনও (জমিতে) পলি পড়ছে, এক সপ্তাহ ধইরা মেঘও (বৃষ্টিও) অর (হচ্ছে), দিনের (আবহাওয়ার) গতিও ভালা।’
আমনের ফলন ভালো হবার স্বপ্ন দেখলেও সার পাবেন কি-না, এই নিয়ে চিন্তিত এই কৃষক। জানালেন, বেশি দিনের চারা রোপণ করেছেন। সার না দিলে ফলন ভালো হবে না।
দোয়ারাবাজারের পা-ারগাঁও ইউনিয়নের ডুংরিয়া গ্রামের কৃষক কৃপেন্দ্র সুত্রধর বললেন, হকলেই (সকলেই) অখন (এখন) সারের দোকানও গিয়া খোঁজ খবর নের (নিচ্ছে), এর লাগি সারের দাম বাড়াই দিছে তারা। ১১শ’ টেকার (টাকার) সার শনিবার গ্রামের পাশের বাজারে ১২শ’ টেকা বেচছে।
বিশ^ম্ভরপুরের বাঘগাঁও গ্রামের কৃষক ফরিদ আলম অবশ্য ১১শ’ টাকার ইউরিয়া শনিবার ৫০ টাকা বেশি দিয়ে ১১শ’ ৫০ টাকা এবং ৮০০ টাকা বস্তার ডিএপি ৮৫০ টাকায় কিনেছেন।
কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা, ধর্মপাশার বাদশাগঞ্জের বাসিন্দা খায়রুল বাশার ঠাকুর খান জানালেন, গ্রামাঞ্চলে সার পাওয়া যাচ্ছে, তবে দাম বেশি। ইউরিয়া সার ৫০ কেজির বস্তা ১২শ’ টাকা এবং অন্য সার প্রতি কেজিতে তিন-চার টাকা বেশি দামে বিক্রয় হচ্ছে।
জেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি নুরুল আক্তার বললেন, সারের কোন সমস্যা নেই। মাসের শেষ দিকে সার পেতে একটু সমস্যা থাকে। পাঁচ-ছয় তারিখের মধ্যে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। গ্রামাঞ্চলে পরিবহন খরচ বেশি লাগায় বস্তা প্রতি ২০-৩০ টাকা বেশি নেন ডিলাররা। আমার ডিলার পয়েন্টে আসলে সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বস্তা প্রতি ২০ টাকা কমে নিতে পারবেন যে কেউ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের দায়িত্বশীলরা জানান, সেপ্টেম্বর মাসে সুনামগঞ্জে ইউরিয়া সারের চাহিদা পাঁচ হাজার ৯৬ টন। বরাদ্দ হয়েছে দুই হাজার ২৪৫ টন। টিএসপির চাহিদা ৯৪৩ টন, পাওয়া গেছে ৩০৮ টন, এমওপির চাহিদা ২৩৪৫ টন, পাওয়া গেছে ৪০৪ টন, ডিএপি’র চাহিদা ১৩৮২ টন, পাওয়া গেছে ৬৮৬ টন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বললেন, জেলার কোথাও সার পেতে এই মৌসুমে সমস্যা হবে না। বিসিআইসির কাছে গেল মাসের পাওনা সার এই মাসে আসবে ৮০০ টনের মত। মওজুদ আছে ৯৮৩ টন। এছাড়া এই মাসের বরাদ্দকৃত সারও আসবে। সব মিলিয়ে চাহিদায় ঘাটতি থাকবে না। বেশি দামে সারের বিক্রয় ঠেকাতে কৃষি বিভাগের নজরদারী জোরদার করা হয়েছে। প্রত্যেক সারের দোকানে মূল্য তালিকা টাঙানো আছে। বৃহস্পতিার কৃষি কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানালেন, কৃষকরা সার নিতে এসে ফেরৎ যাবেন না, সরকার নির্ধারিত দামেই সার কিনতে পারবেন। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার কাউকে দেওয়া হবে না। অর্থাৎ সারের মওজুদ করতে পারবেন না কেউ।


