স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ভূমিহীন পরিবারের জমি দখলের প্রতিবাদে ও জমি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ারে এই মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনকারী শহরতলির সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন রেজার বিরুদ্ধে খাস জমি দখলের অভিযোগ এনেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন রেজা অবশ্য বলেছেন, খাস জমি দখলের প্রশ্নই ওঠে না। নির্বাচনে আমার সঙ্গে পরাজিত হয়ে একটি মহল আমার এবং আমার পরিবারের সুনাম নষ্টের অপচেষ্টা করছে।
সুরমা ইউনিয়নের পূর্ব ইব্রাহিমপুর গ্রামের ২৫ টি ভূমিহীন পরিবারকে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন খতিয়ানে বন্দোবস্ত দেওয়া প্রায় ৪৫ কেয়ার (১৫ একর) খাস ভূমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ করেছে মানবন্ধনকারী ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মো. আব্দুল হান্নান, আজ্ঞুরা বেগম, আব্দুল করিম, জুনাব আলী, জায়েদা খাতুন, দিলারা বেগম, রেজিয়া বেগম, মইনুল হক, শাহ আলম, ওয়াহিদুল হক, রুপচান বেগম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আনুমানিক ৩০ বছর পূর্বে ইব্রাহিমপুর মৌজার ডিসির খতিয়ানের ১৫ একর পতিত জমি ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। কিন্তু সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমির হোসেন রেজা এই বন্দোবস্তকৃত জায়গাটুকু জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। তারা গৃহহীন বলেই সরকার থেকে ঐ খাস জায়গাটুকু বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন। অবিলম্বে তাদের দখলকৃত জায়গা উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন মানববন্ধনকারীরা। মানববন্ধন কারীরা বলেন, বন্দোবস্তকৃত খাস জমি খুঁজে দেবার কথা বলে ২০০৩ সালে মাঠ জরিপের সময় বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন রেজা বন্দোবস্তকৃত জমির দলিল হাতিয়ে নেন। এরপর তিনি জমি দখল করেন। এখন জমির দখলও ছাড়ছেন না, দলিলও ফেরৎ দিচ্ছেন না। এর আগে চলতি বছরের ২ মার্চ জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা।
সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমির হোসেন রেজা বললেন, কোথায় কার খাস জমি আছে আমি জানি না। আমি খাস জমি দখল করার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি জানান, ২০০৩ সালে ইব্রাহিমপুর মৌজায় কিছু খাস জমি বন্দোবস্ত নেয় অন্তত ২৫ টি পরিবার। এরা তাঁর কাছে আসে বন্দোবস্তকৃত দলিল নিয়ে ভূমি খুঁজে দেবার জন্য। তিনি তাদের বলেছিলেন, কোথায় খাস জমি তিনি জানেন না, পরে তারা জনপ্রতি কেউ আড়াই হাজার, কেউ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে স্টাম্পে লিখে দিয়ে যায় এবং দলিল রেখে যায়। কথা থাকে জমি খুঁজে পেলে আরও টাকা দেওয়া হবে এবং তারা জমি লিখে দেবে। এরপর তিনি ব্যস্ত হয়ে যান। জমিও খোঁজা সম্ভব হয় নি।
তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষদের মুজিববর্ষের উপহারের ঘর দেবার জন্য খাস জমি খুঁজতেছি। আমার পরিবারের জমি-জমার মধ্যে এক ইঞ্চি খাস জমি থাকলে, আমি নয়শ গুণ টাকা ফেরৎ দেব।


