পি সি দাশ, শাল্লা
শাল্লা উপজেলার ৩নং বাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিধান চন্দ্র চৌধুরী এবং ইউপি সচিব বিপ্লব কুমার দাস’র বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন ইউপি সদস্যরা। গত ১২ অক্টোবর সোমবার এই অভিযোগপত্র জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করা হয়।
অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন ৩নং বাহার ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ড সদস্য ব্রজলাল দাশ, প্যানেল চেয়ারম্যান মহাদেব রায়, ৩নং ওয়ার্ড সদস্য প্রসেনজিৎ দাস, ৪নং ওয়ার্ড সদস্য লিপটন দাস, ৫নং ওয়ার্ড সদস্য সজল চৌধুরী, ৬নং ওয়ার্ড সদস্য প্রদীপ চন্দ্র দাস, ৭নং ওয়ার্ড সদস্য নিতাই চাঁদ দাস, ৮নং ওয়ার্ড সদস্য নরেশ অধিকারী, ৯নং ওয়ার্ড সদস্য মো. উবায়দুল হক, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আভা রানী তালুকদার, মোছা. ফাতেমা এবং হালিমা বিবি।
অভিযোগের অনুলিপি শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরও দেয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, চেয়ারম্যান বিধান চন্দ্র চৌধুরী এবং ইউপি সচিব বিপ্লব কুমার দাস ভিডিডি’র সঞ্চয়কৃত ৬ লক্ষ টাকার ব্যাংক হিসাব জমা প্রদান করেননি। গত ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ থেকে ২০২০-২০২১ সনের আদায়কৃত ট্যাক্সেও টাকার পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও জমা প্রদান করেননি। আমাদের ধারণা তারা ট্যাক্সেও কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন। হিসাব নিকাশ শেষ করার জন্য বারবার তাগিদ দেয়া হলেও চেয়ারম্যান বলেন সচিব জানে আর সচিব বলেন চেয়ারম্যান জানেন। এ্ দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। অভিযোগে সরেজমিন তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান বিধান চন্দ্র চৌধুরী বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এসব কাজ করি না। সামনে নির্বাচন তাই একটি পক্ষ আমাকে হারানোর জন্য এসব রটাচ্ছে।
অভিযোগকারী সদস্য ব্রজলাল দাস বলেন, আমরা চেয়ারম্যান বিধান চৌধুরী ও বদলীকৃত সচিব বিপ্লব দাসকে বার বার বলেছি অভিযোগে বর্নিত বিষয়গুলো সমাধান করতে। কিন্তু কে শুনে কার কথা। চেয়ারম্যান দোষ দেন সচিবের, আর সচিব দোষারোপ করেন চেয়ারম্যানকে। এই অবস্থায় আমরা ১২ জন সদস্য পরিষদের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট অভিযোগ করেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদির হোসেন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বেশ কিছু দিন যাবত বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। গত সোমবার বিকালে জেলা প্রশাসক মহোদয় আব্দুল আহাদ স্যার ফোনে আমাকে অভিযোগের বিষয়ে বলেছেন এবং বিষয়টি দেখার জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি এ প্রতিবেদক কে জানান।


