ছাতকের ১১ কি.মি.রাস্তা দেখার কেউ নেই

শহীদনূর আহমেদ
ছাতক উপজেলার দক্ষিণ  খুরমা ইউনিয়নের বুকারভাঙ্গা-কাশিপুর ১১ কিলেমিটার রাস্তার বেহাল দশা। এলাকাবাসীর অভিযোগ এসব দেখার যেন কেউ নেই। অনেক পুরনো সিসি ঢালাইকৃত রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্যদিন থেকে পাকা সড়কটির বেহাল দশায় এলাকাবাসীকে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তাটির উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলদের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, ২০০০ সালে এমপির থোক বরাদ্দে সিসি ঢালাই দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। ১৬ বছরের পুরানো রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা খুবই নাজুক। রাস্তার সিসি ঢালাই নষ্ট হয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। গর্তগুলোতে পানি ও কাঁদা জমায় যানবাহন চলাচলে দেখা দেয় প্রতিবন্ধকতা। ভঙ্গুর রাস্তা চলাচলে প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।
রাস্তাটি বুকারভাঙ্গা হতে  মানিকগঞ্জ বাজার হয়ে কাশিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন দক্ষিণ খুরমা, সিংচাপইড়, দুলারবাজারসহ ৩ টি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। দীর্য এই রাস্তাটির দুপাশে রয়েছে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভাঙ্গা রাস্তা দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে কোমলমতি শিক্ষাথীদের পোহাতে হচ্ছে নানা ভোগান্তি। এই রাস্তার পাশে রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক, হাসপাতাল, মসজিদ, হাটবাজারসহ গুরুত্বপুর্ণ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এই রাস্তা দিয়ে জেলা শহরে যাতায়াত করছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। প্রধান সড়কটির এমন বেহলা দশায় প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে তারা।
মুনিরজ্ঞাতি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র আব্দুল্লা আল মামুল বলেন,‘আমি মুনিরজ্ঞাতি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ি। এই রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। আমার সহপাঠিরা দূরদুরান্ত থেকে অনেক কষ্ট করে আসে এই রাস্তা দিয়ে। বৃষ্টি বাদলের দিনে যাতায়াত করতে অনেক কষ্ট হয়।
দড়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল আলী বলেন, ‘রাস্তাটির অবস্থা খুবই নাজুক। ২০০০ সালে রাস্তাটি নির্মিত হয়েছিল কিন্তু এরপর থেকে রাস্তায় আর কোন কাজ হয়নি।এই রাস্তা দিয়ে ৩ টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। অচিরেই রাস্তাটি মেরামত করা প্রয়োজন।
দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির আলী বলেন,‘এমপির থোক বরাদ্দ দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্য ১৬ বছরে রাস্তাটির সংস্কারের কোন কাজ করা হয়নি। দিন দিন রাস্তাটির অবস্থা খারাপ হচ্ছে।  এই  রাস্তাটির পুন:নির্মাণের প্রস্তাব সংসদে পেশ করেছেন এমপি মহোদয়। ’
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ বলেন,‘রাস্তাটি ১৪-১৫ বছর পুর্বে নির্মিত হয়েছিল। ভারি যানবাহন ও বর্ষার বৃষ্টিপাতে রাস্তাটির অবস্থার অবনতি হয়েছে। রাস্তাটি  এলজিইডির আওতায় মেরামত করার পরিকল্পনার তালিকায় অগ্রাধিকারভিত্তিতে রাখা হয়েছে।’