বিশেষ প্রতিনিধি
জেলার ছাতকের ৫ ইউনিয়নে মূল লড়াই হতে পারে আওয়ামী লীগে-আওয়ামী লীগে। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে জাউয়াবাজার, কালারুখা, সিংচাপইড়, ছাতক সদর ও উত্তর খুরমা। এই ৫ ইউনিয়নের ৩ টিতে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন স্থানীয়ভাবে মেয়র আবুল কালাম ও তাঁর ভাই শামীম চৌধুরীর সমর্থক হিসাবে পরিচিতরা। এই ইউনিয়নগুলোতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের সমর্থকেরা। আবার জাউয়াবাজার ও উত্তর খুরমায় আওয়ামী লীগের বর্তমান চেয়ারম্যানরা নৌকা প্রতীক পেয়েছেন। তাঁদের বিপরীতে আবুল কালাম সমর্থকরা লড়ছেন, আবার জাউয়াবাজারে মুহিবুর রহমান মানিকেরও সমর্থক একজন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। দুই পক্ষের দলের প্রার্থীরাই দলের নেতারা নৌকার বিরুদ্ধে প্রচারণা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন। ছাতকের ১৩ ইউনিয়নের নির্বাচন ৩১ মার্চ।
ছাতক আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরেই দ্বিধাবিভক্ত। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক ও ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালামকে ঘিরেই এই দ্বিধাবিভক্তি। এবারের ইউপি নির্বাচনে ছাতকের ১৩ ইউনিয়নের ১০ ইউনিয়নেই মুহিবুর রহমান মানিকের সমর্থকরা দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। ছাতক সদর, কালারুখা ও সিংচাপইড়ে আবুল কালাম সমর্থক সাইফুল ইসলাম, অদুদ আলম, সাহাব উদ্দিন সাহেল নৌকা
পেয়েছেন। মনোনয়নের শুরু থেকেই মুহিবুর রহমান মানিক সমর্থকরা এদের দুইজন নির্বাচন করার জন্য কয়েকদিন আগে দলে এসেছেন উল্লেখ করে এঁদের হাতে নৌকা নিরাপদ নয় দাবী করে সোচ্চার হয়েছিলেন। অন্য আরেক প্রার্থীকে বিতর্কিত দাবি করে তাঁরও বিরোধিতা করেছিলেন। পরে এই ৩ ইউনিয়নেই বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মানিক সমর্থকরা।
এরা হচ্ছেন ছাতক সদর ইউনিয়নে সেলিম মিয়া, কালারুখায় আপ্তাব উদ্দিন ও সিংচাপইড়ে মুজাহিদ আলী। অন্যদিকে উত্তর খুরমায় মুহিবুর রহমান মানিকের চাচাতো ভাই বিল্লাল হোসেনকে ঠেকাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সমসুল ইসলাম খান নামের বিদ্রোহী প্রার্থীকে আবুল কালাম সমর্থকরা সহায়তা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। আবার জাউয়াবাজার ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মুহিবুর রহমান মানিকেরই আরেক সমর্থক মুরাদ হোসেন, এই ইউনিয়নে আবুল কালাম সমর্থক রেজা মিয়া তালুকদারও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।
কালারুখা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী অদুদ আলম বলেছেন,‘আমার ইউনিয়নে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীর জন্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুলও ভোট চাচ্ছেন’।
এই ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী আপ্তাব উদ্দিন বলেছেন,‘পুরো ইউনিয়নে অদুদ আলম টাকা ছড়াচ্ছেন, আমরা অন্য প্রার্থীরা আজ (মঙ্গলবার) রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাব’।
জাউয়াবাজার ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী মুরাদ হোসেন বলেন,‘নৌকার পক্ষে মিছিল- শো-ডাউন হলে কেউ বাধা দেয় না, আইনও লঙ্ঘন হয় না, আমরা মিছিল-সমাবেশ করতে চাইলেই থানার ওসি সাহেব – দারোগা সাহেবের ফোন আসে’।
সিংচাপইড় ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী মুজাহিদ আলী বলেন,‘আমার ইউনিয়নে ভোটের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে জোর জবরদস্তি হতে পারে, সব কয়টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ’।
এই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী পৌর মেয়ার আবুল কালাম চৌধুরী ফুফাতো ভাই সাহাব উদ্দিন সাহেল ফোন রিসিভ না করায় কথা বলা যায়নি।
উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিল্লাল হোসেন বলেন,‘ফোন দিয়ে, লোক পাঠিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট না দেবার জন্য আবুল কালাম চৌধুরীর ভাই শামীম চৌধুরী দলীয় নেতা কর্মীদের অনুরোধ জানাচ্ছেন বলে আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে’।
পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী’র ভাই আওয়ামী লীগ নেতা শামীম চৌধুরী বলেন,‘আমি কোথাও নৌকার বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করিনি, ভোটও চাইনি, কিন্তু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বকুল ৩ টি ইউনিয়নে গিয়ে নৌকার বিরোধিতা করে বিদ্রোহী প্রার্থীকে ভোট দেবার কথা বলেছেন’।
মুহিবুর রহমান মানিকের আস্থাভাজন হিসাবে পরিচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল বলেন,‘আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গেই আছি, আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পক্ষেই সকলকে থাকারও আহ্বান করছি, দলের বিরোধিতা করছি এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয়, আমি আওয়ামী লীগের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি, আমার দায়বদ্ধতা আছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়ী করাতে হবে, সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের জন্য কোথাও গিয়েছেন, কারো পক্ষে-বিপক্ষে বলেছেন, এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন না’।


