ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকের ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের লাড়িগাঁও গ্রামের কবিরুননেছা হত্যা মামলাটি নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিআইডিতে হস্তান্তর করার দাবি জানিয়েছেন আসামী পক্ষ। তাদের দাবি একটি বিতর্কিত হত্যা মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। মামলাটি গোয়েন্দা বিভাগের দ্বারা তদন্ত করা হলে মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে আসামী পক্ষ মনে করেন।
ছেলেদের ঝগড়া নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক বৃদ্ধার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নিছক হয়রানীর উদ্দেশ্যে ভিন্ন গ্রামের লোকজনদের আসামী করা হয়েছে বলে এলাকার একাধিক লোকজন দাবি করেছেন। এ ছাড়া দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত এ বৃদ্ধার সংঘর্ষের ঘটনায় মৃত্যু হয়নি বলেও তাদের দাবি। মামলার এজাহার মতে, ২৬ জুন লাড়িগাঁও গ্রামে একই গোষ্ঠীর লায়েছ মিয়া ও আরিফ আলী পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় লায়েছ মিয়া ও তার মা করিবুননেছা (৭৬) আহত হন। আহত লায়েছ মিয়া প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও তার মা করিবুননেছাকে ছাতক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৭ জুন ছাড়পত্র নিয়ে করিবুননেছা বাড়িতে চলে গেলেও দু’দিন পর ২৯ জুন তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩০ জুন ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন করিবুননেছা। এ ঘটনায় ৩ জুলাই ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন লায়েছ মিয়া।
এ মামলায় লাড়িগাঁও গ্রামের আরিফ আলী, ওয়ারিছ আলীসহ ১১জনকে এবং খিদুরা গ্রামের ৯ ব্যক্তিকে আসামী করা হয়। খিদুরা গ্রামের বাসিন্দা ও মামলার আসামী তাজুদ মিয়া, ফজর আলী, বিলাল মিয়া, বদরুল, নুর মিয়া, আব্দুল মমিন ও আব্দুল আহাদ জানান, তারা অন্য গ্রামের বাসিন্দা এবং এ ঘটনার কোন কিছুই তাদের জানা নেই। তাদের এ মামলায় আসামী করা হয়েছে শুনে তারা হতভম্ব হয়েছেন। রোগাক্রান্ত করিবুননেছাকে এর আগেও একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তিসহ চিকিৎসা করানো হয়েছে। কিভাবে এ বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে তাও তাদের জানা নেই।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদ জানান, লাড়িগাঁও গ্রামের দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। তবে মামলায় খিদুরা গ্রামের যাদের আসামী করা হয়েছে তারা এ বিষয়ে জড়িত নয়। এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল মামলাটির গোয়েন্দা তদন্তের দাবি করেছেন।


