ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। খুঁটির দূরত্ব বেশী হওয়ায় সঞ্চালন লাইন ঝুলে আছে বিপদজনকভাবে নীচু অবস্থায়। অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপদ খাম্বার পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশের খুটি। ফলে ঝুঁকির মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন ইউনিয়নের ৫টি ওয়ার্ডের দেড় সহস্রাধিক গ্রাহক।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাকা খুঁটির পাশাপাশি বাঁশের খুঁটি দিয়ে বিদ্যুতের লাইন টানা হয়েছে। কোন-কোন গ্রামের গাছে পেছিয়ে বিদ্যুত লাইন এক স্থান থেকে অন্যস্থানে সঞ্চালন করা হয়েছে। বাঁশের খুঁটি ও গাছ ব্যবহার করে বিদ্যুত লাইন টানার ফলে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছেন মানুষ। ৫টি ওয়ার্ডে দু’শতাধিক বাঁশের খুঁটি রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। দুর্নীতির মাধ্যমে স্থানীয় একটি মহলের সহযোগিতায় বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন সরকারের বরাদ্দকৃত টাকা ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে পাকা খুঁটির পরিবর্তে বাঁশ ও গাছের খুঁটিতে বিদ্যুৎ লাইন দিয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন।
ভৌগোলিক বিবেচনায় ইসলামপুর ইউনিয়ন একটি জটিল জনপদ হলেও শিক্ষা ও ব্যবসার ক্ষেত্রে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়ন থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে এ ইউনিয়নের মানুষ। বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ববোর্ডের চেয়ারম্যান ও সিনিয়র সচিব নজিবুর রহমানের জন্মস্থান এ অঞ্চলে। ছোট-বড় টিলা বেষ্টিত সীমান্ত অঞ্চল হওয়ায় ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ডে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। ভৌগোলিক জটিলতার কারণেই এ ইউনিয়ন যোগযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠে নৌকা। বর্ষায় ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তার হয়ে উঠে এ ইউনিয়নের মানুষের জন্য দুর্ঘটনার কারণ। ফলে বিগত দিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে একাধিক লোক। রাতের আঁধারে নৌকা চলাচলের সময় বেশীর ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে বিদ্যুৎজনিত কারণে। কোন-কোন স্থানে পানির উচ্চতা থেকে ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক তারের উচ্চতা ৫-৭ ফুটের মধ্যে এসে পড়ে। নৌকার লগিতে লেগে প্রতিবছরই এখানে বিদ্যুতের তার ছেঁড়ার ঘটনা ঘটে থাকে। ছাতক বিদ্যুৎ দপ্তরের আওতাধিন ইউনিয়নের জামুরা, মৌলভিরগাঁও, ইসলামপুর, বাহাদুরপুর, নিয়ামতপুর, গনেশপুর, গোয়ালগাঁও, নোয়াগাঁও, বন্দেরগাঁও, জৈন্তাপুর গ্রামে পাকা খুঁটির পাশাপাশি বাঁশের খুটি ও গাছ ব্যবহার করা হয়েছে।
জৈন্তাপুর গ্রামের আনসার আলী মেম্বার, মৌলভিরগাঁওয়ের ইকবাল হোসেন, বাহাদুরপুরের আফতার উদ্দিন, জামুরার নুপুর দাস, মাদ্রাসা বাজারের আফাজ মিয়া জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে ইউনিয়নের ১০-১২ গ্রামের মানুষ বিদ্যুতজনিত দুর্ঘটনার আশংকায় রয়েছেন। এসব গ্রামে বিদ্যুৎ লাইন টানতে খাম্বার পাশাপাশি বাঁশের খুঁটি ও গাছ ব্যবহার করেছে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন। প্রতিবছর এখানে বিদ্যুতজনিত দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা বাঁশের খুটি অপসারণ করে বিদ্যুৎ বিভাগের সরকারী খুঁটি স্থাপনের দাবি জানান।
ইউপি সদস্য আব্দুস সহিদ ও সাজ্জাদুর রহমান জানান, দু’শতাধিক বাঁশের খুটিতে ঝুকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন দেয়া হয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার জানালেও বাঁশের খুটি বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের নজরে পড়ছে না। দুর্নীতি আড়াল করতেই বিষয়টি তারা আমলে নেননি। বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল জানান, সরকার শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিদ্যুৎ সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে দুর্নীতি-অনিয়ম সহ্য করা হবে না। ইসলামপুর ইউনিয়নে বাঁশের খুটি অপসারণ করে সরকারী খুঁটি দ্রুত প্রতিস্থাপন করা হউক, এটাই কাম্য।
বিদ্যুৎ অফিসের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জামুরা, মৌলভিরগাঁও, ইসলামপুর, বাহাদুরপুর, নিয়ামতপুর, গনেশপুর, গোয়ালগাঁও, নোয়াগাঁও, বন্দেরগাঁও, জৈন্তাপুর গ্রামে ১ কেভি ও ০.৪ কেভি লাইন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে জরুরী ভিত্তিতে মালামাল বরাদ্দের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন পাঠানো হয়েছে। মালামাল পেলেই কাজ শুরু করা হবে।


