ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে নাইটগার্ডকে বেঁধে রেলওয়ে গুদামে দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। সোমবার ভোরে সুরমা নদীর তীর সংলগ্ন রেলওয়ের গুদামে চুরি সংঘটিত হলেও সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গোপন রাখতে নিরব ভূমিকা পালন করছেন। রেলওয়ে বিভাগের গুদামে চুরির ঘটনা নিয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। এদিকে চোরদের ব্যাপক মারধরে গুরুতর আহত নাইট গার্ডকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে পুরো বিষয়টিকে গোপন রাখার চেষ্টা করছেন। এ ব্যাপারে থানায় কোন জিডিও করা হয়নি বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জান যায়, ছাতকে সুরমা নদীর তীরে অবস্থিত রোপওয়ের আনলোডিং বাঙ্কার সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে রেলওয়ে বিভাগের ইলেক্ট্রিক গুদাম। রেলওয়ের এ গুদামে নাইট গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন পৌর শহরের লেবারপাড়া গ্রামের মনির উদ্দিনের পুত্র আফিক মিয়া। সোমবার ভোর রাতে ৬-৭ জনের মুখোশধারী চোর নাইটগার্ড আফিক মিয়াকে আক্রমণ করে গুদামের চাবি দিতে বলে। গুদামের চাবি না পেয়ে আফিক মিয়াকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে চোরেরা। এক পর্যায়ে চোরেরা তার হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে গুদামের তালা ভেঙ্গে ফ্যান, ইলেক্ট্রিক মোটর, জেনারেটর, বিপুল পরিমাণ এলুমোনিয়ামের তার, মুল্যবান তামা ও লৌহজাত সামগ্রীসহ কয়েক লক্ষ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। পর দিন মঙ্গলবার সকালে লাফার্জের ফেরী চালক আশরাফ আলী রোপওয়ের আনলোডিং বাঙ্কার এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় নাইটগার্ড আফিক মিয়াকে হাত-পা বাধাঁ অবস্থায় দেখতে পেয়ে তার স্বজনদের খবর দেন। এসময় আফিক মিয়ার ভাতিজা ফেরীঘাটের হোটেল ব্যবসায়ি সুহেল আহমদ ও তার ভাই রফিক মিয়াসহ স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ব্যাপারে নাইটগার্ড আফিক মিয়া জানায়, রোপওয়ে বাঙ্কার সংলগ্ন রেলওয়ের এ গুদামে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত নাইটগার্ড হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। সোমবার ভোর প্রায় ৪টায় ৬-৭জন মুখোশধারী তাকে ব্যাপক মারধর করে হাত-পা বেঁধে মাঠে ফেলে রাখে। গোদামে কি কি মালামাল ছিল তার জানা নেই।
ছাতক রেলওয়ের উপ-সহকারি প্রকৌশলী রতিশ পাল চুরির ঘটনা স্বীকার করে জানান, গুদাম থেকে কোন মালামাল খোয়া যায় নি।


