ছাতকে নৌকা ডুবিতে শিশু নিখোঁজ, আহত ১০

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে সুরমা নদীতে নৌ-দুর্ঘটনায় মুজাহিদ আলী নামের সাড়ে ৩ বছরের এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে নারীসহ আরো ১০ ব্যক্তি। আহতদের ছাতক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের মাছবাজার সংলগ্ন সুরমা নদীতে এ নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধারে সুরমা নদীতে ছাতক ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরীদল অভিযান চালিয়েছে। এ রিপোর্ট লেখ পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম চলছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ছৈদাবাদ যাওয়ার জন্য শহরের মাছ হাটা ঘাট থেকে ছেড়ে যায় যাত্রীবাহী একটি ফেরী নৌকা। ফেরী নৌকায় নির্মাণ সামগ্রী ও গ্রোসারী মালামালসহ ১০-১৫ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। ঘাট থেকে ছেড়ে নদী মাঝা-মাঝি জায়গায় পৌঁছলে উজানমুখী সান আবিদ-১ নামের একটি বাল্কহেড নিয়ন্ত্রন হারিয়ে যাত্রবাহী ওই ফেরী নৌকাকে ধাক্কা দেয়। এতে ফেরী নৌকাটি উল্টে গেলে শিশু মুজাহিদ আলী পানিতে তলিয়ে যায়। ফেরী নৌকায় থাকা অন্যান্য যাত্রী সাঁতার কেটে পাড়ে উঠলেও শিশু মুজাহিদকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নৌ-দুর্ঘটনায় ছৈদাবাদ গ্রামের নিখোঁজ শিশুর পিতা আনহার আলী (৩৫), মা আবেদা বেগম (৩৮), একই গ্রামের মকরম আলী (৫৫), আলী হোসেন (৩০), চরমহল্লা ইউনিয়নরে হাশারুচর গ্রামের হোসেন আলী (৫৮), ছাতক সদর ইউনিয়নের গণক্ষাই গ্রামের কমর উদ্দিন (৩৩), নোয়ারাই ইউনিয়নের কারুলগাঁও গ্রামের রাশিদা খাতুন (৫৫) সহ ১০ জন আহত হয়। খবর পেয়ে ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং বাল্কহেডটিকে আটক করেন। এসময় শিশুটিকে উদ্ধারে ছাতক ফায়ার সার্ভিসকে তলব করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরীদল সুরমানদীর ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালায়।
আহতরা জানান, ফেরী নৌকায় থাকা টিন, কাঠ, রড, সিমেন্ট, বেভারিজ মামলামাল, গ্যাস সিলিন্ডার, ৩টি সিলিং ফ্যান, কয়েকটি মোবাইল, নগদ টাকাসহ কয়েক লক্ষ টাকার মালামাল নদীর পানিতে তলিয়ে যায়।
সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নিউটন দাস তালুকদার জানান, প্রায় এক ঘন্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন। নদীতে প্রবল ¯্রােত থাকায় ঘটনাস্থল তার আশপাশে তল্লাসী করেও শিশুক উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।