ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের আওতায় নির্মিত কটালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর-লামারসুলগঞ্জ সড়কের পাশে কটালপুর গ্রামে কটালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়বিহীন এলাকার অন্তত ৪টি গ্রামের কোমলমতি শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সহজ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের জন্য দৃষ্টিনন্দন ও অত্যাধুনিক কাঠামোগত ভবন নির্মাণ করা হলেও শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ ও শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম এখনো শুরু করা হয়নি।
ফলে বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় সরকারী এ বিদ্যালয়টি শিক্ষক-শিক্ষার্থীবিহীন অবস্থায় শুধুই শোভা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে শীঘ্রই শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ও শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিদ্যালয় হিসেবে কটালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যাত্রা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারের বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় ১ হাজার ৫শ নতুন বিদ্যালয় নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ছাতকের কটালপুর গ্রামে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রায় ৬৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক অবকাঠামোগত ভবন নির্মাণের পাশাপাশি পানীয় জলের জন্য নলকূপ ও স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াসব্লক একই সাথে নির্মাণ করা হয়েছে। চার কক্ষ বিশিষ্ট বিদ্যালয়ের মূল ভবনটির পাশেই রয়েছে আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াসব্লক এবং ভবন ও ওয়াসব্লকের মাঝামাঝি স্থানে রয়েছে সক্রিয় নলকূপ। শিক্ষার্থীদের খেলাধূলা করার জন্য বিদ্যালয়ের সামনে রয়েছে বিশাল মাঠ। তবে জলালপুর-লামা রসুলগঞ্জ সড়ক ও বিদ্যালয়ের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া রতœাখাল বিদ্যালয়টিকে আলাদা করে রেখেছে। বিদ্যালয়ে সহজ যাতায়াতের জন্য রতœাখালের উপর কালভার্ট ও প্রধান সড়কের সাথে বিদ্যালয়ের নিজস্ব রাস্তা এখনো তৈরী করা হয়নি।
জানা যায়, কটালপুর গ্রামের মৃত হাজী মজর আলীর পুত্র যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হাজী মকন মিয়া, হাজী আব্দুল কাদির ও হাজী আব্দুল কদ্দুছ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রায় অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের এক একর ভুমি দান করেছেন। শিক্ষাবঞ্চিত এলাকার কোমলমতি শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করতেই প্রবাসীরা এ ভূমি দান করেছেন বলে জানা গেছে। এলাকার শিক্ষা প্রসারে তাদের এ অবদান এলাকাবাসীর কাছে চির অম্লান হয়ে থাকবে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় আব্দুর রহিম, গৌছ উদ্দিন, ফয়জুর রহমান, সুন্দর আলী, আজমান আলীসহ একাধিক লোক জানান, এলাকার কটালপুর, হালকেয়ারী, জলালপুর ও নোয়াগাঁও গ্রামের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সুবিধা বাড়বে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র দাস জানান, টুকটাক কাজ ছাড়া কটালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণসহ আনুসাঙ্গিক কাজ শেষ হয়েছে। শীঘ্রই বিদ্যালয়টি উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ থেকে বুঝে নেয়া হবে। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী সমরেন্দ্র দাস তালুকদার জানান, বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন তিনি পরিদর্শন করেছেন। ভবনের অবকাঠামোগত নির্মাণ কাজ সন্তোষজনক উল্লেখ করে তিনি জানান, শীঘ্রই ভবনটি প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


