ছাতকে সংঘর্ষ পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক ৮ রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ, আটক ২

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে পুর্ব শত্রুতার জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ, মহিলা ও শিশুসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ৮ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ।
শনিবার বিকেলে নোয়ারাই ইউনিয়নের বড়গল্লা গ্রামের মৃত মজিদ মিয়ার পুত্র আব্দুল করিম ও মৃত ছৈদ আলীর পুত্র মনির মিয়া পক্ষদ্বয়ের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ অন্তত ৭-৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করেছে বলে স্থানীয়রা জানান। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরগল্লা গ্রামের দু’টি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে   
দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে আব্দুল করিম ও মনির মিয়ার মধ্যে গ্রামের রাস্তায় বাক-বিতন্ডা হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সৃষ্টি হয় চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। বিষয়টি থানা পর্যায়ে গড়ালে শনিবার দুপুরে পুলিশের মধ্যস্থতায় এলাকার গণ্যমান্যদের নিয়ে সালিশে নিস্পত্তির জন্য দু’পক্ষের সম্মতি নেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার পর-পরই দু’পক্ষ আবারো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
মুহূর্তের মধ্যে সংঘর্ষ সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে গোটা এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে এক পর্যায়ে ৭-৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে পুলিশ, নারী ও শিশুসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। গুরুতর আহত মটুক মিয়া (৪০), রাকিব আলী (২০), মুজিব (১৮), সালমান (২২), মিছির আলী (৭০), গুলিবিদ্ধ রাজু (২২), আব্দুল আহাদ (৪০) ও মখলিছ আলী (৫৫)কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশ কনষ্টেবল মিলকান আহমদ সাকিব, মালা বিবি (৫০), তুহিন আলম (২২), লায়েক মিয়া (২৬), জয়মালা (৪৫), শামীম (২৫) রুবেল(১৯), শিপলু(১৮), জকির আলী (৩৫), আফরোজ আলী (৩০), রহিম আলী (২৬),  আলী আকবর (৮), আব্দুল জহুর (৩০), ইব্রাহিম (১৮), খুর্শিদ মিয়া (৫০), ইয়াছিন (২৫), মিয়াধন আলী(৫৫), আলাল আহমদ (২৪), শহিদ আলী (২৬), মঞ্জুর আলম (১৮), রহিম আলী (৩২), শাহীনা বেগম (১৮), সোমা বেগম(১৪), শাহানারা বেগম(৩০), আব্দুল হামিদ(২৬), নাজমা বেগম (২২) সহ অন্যান্য আহতদের ছাতক হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রামদা ও একটি হকিষ্টিক উদ্ধারসহ আহত আব্দুল করিম (৬০) ও মুহিবুর রহমান (১৮) নামের দু’ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ছাতক থানার ওসি আশেক সুজা মামুন ৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ার কথা স্বীকার করে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় দু’জনকে আটক করা হয়েছে।