ছাতকে সম্পত্তি থেকে দুই উত্তরাধিকারী বঞ্চিত

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে প্রবাসী দুই ভাই-বোনের নাম বাদ দিয়ে উত্তারধিকার সনদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন হাজী সুনু মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী। প্রবাসী ভাই-বোনকে অজ্ঞাত রেখে উত্তারধিকার সনদে তাদের নাম না রেখে প্রতারণার   
মাধ্যমে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে এ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ৬ ভাই-বোনের মধ্যে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে উত্তরাধিকার সনদ নিয়ে একটি বাটোয়ারা দলিল করে প্রবাসী দু’ ভাই-বোনকে বঞ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় উপজেলার ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের বাগইন গ্রাম ও এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েছেন দেশে থাকা আপন ভাই হাজী সুনু মিয়া।
জানা যায়, বাগইন গ্রামের মৃত. হাজী সুলতান মিয়ার ৩ পুত্র ও ৩ কন্যার মধ্যে সেলিম আহমদ, আজাদ মিয়া, নুর জাহান বেগম ও লিপি বেগম যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন দীর্ঘদিন ধরে। দেশে থাকা আফিয়া বেগম বিবাহ সূত্রে দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের চৌকা গ্রামে বসবাস করছেন। বাড়িতে একা থাকার সুবাদে পরিবারের একমাত্র উত্তরাধিকারী  হাজী সুনু মিয়া পৈত্রিক সহায়-সম্পদ দেখা-শোনা ও ভোগ-দখল করে আসছেন। সম্প্রতি পৈত্রিক প্রায় ১৭ একর ভূ-সম্পদের সিংহভাগ ভূমি বাটোয়ারা দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে লিখে নিয়েছেন তিনি। অন্যান্য ভাই-বোনদের নামমাত্র ভূমি দিয়ে প্রবাসে থাকা ভাই সেলিম আহমদ ও বোন লিপি বেগমকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে সম্পূর্নরূপে বঞ্চিত করা হয়। ২৭ আগস্ট সম্পাদিত বাটোয়ারা দলিল (নং-৩২৬২/১৭) অনুযায়ী ১৭ একর ৫৬ শতক ভু-সম্পদের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ১০ একর ৬৮ শতক ভূমি হাজী সুনু মিয়া নিজের নামে রেখে বাকী ৬ একর ৯২ শতক ভূমির মালিক আজাদ মিয়া, আফিয়া বেগম ও নূরজাহান বেগমকে দেখানো হয়েছে। বাটোয়ারা এ দলিলকে পাকাপাকি করার উদ্দেশ্যে ১০ সেপ্টেম্বর প্রবাসী সেলিম আহমদ ও বোন লিপি বেগমকে বাদ দিয়ে ৪ জনের নামে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে একটি উত্তারাধিকার সনদ নেন হাজী সুনু মিয়া। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রবাসে থাকা ভাইবোনরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এ ব্যাপারে সম্পদ বঞ্চিত প্রবাসী সেলিম আহমদ ও লিপি বেগম দুতাবাসের মাধ্যমে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদ উত্তরাধিকার সনদের বিষয়ে জানান, ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার মিলন ধরের তদন্ত ও সুপারিশে উত্তরাধিকার সনদ প্রদান করা হয়েছে। সনদ প্রদানের পর জানা গেছে হাজী সুলতান মিয়ার আরো এক পুত্র ও কন্যা যুক্তরাজ্যে রয়েছেন। বিষয়টি জেনে হাজী সুনু মিয়াকে ডেকে এনে দ্রুত নিস্পত্তির জন্য তিনি চাপ সৃষ্টি করলে হাজী সুনু মিয়া ভুল সংশোধন করবেন বলে চেয়ারম্যানকে আশ্বস্ত করেন।