ছাতক প্রতিনিধি
নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকার রিসোর্ট থেকে কেন্দ্রীয় হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হককে আটকের জের ধরে সুনামগঞ্জের ছাতক পৌর শহরের স্থানীয় হেফাজত অনুসারীরা বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি থানা ও কয়েকটি দোকানে তাণ্ডব চালায়। এসময় ৫ পুলিশ সদস্য আহত, থানার একটি ঘর ভাংচুর এবং ৩ টি দোকান ভাংচুর করা হয়েছে। শনিবার রাত ৯ টা থেকে ১০ টার মধ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
থানায় হামলার আগে ছাতক পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে হেফাজতে ইসলামের অনুসারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২৬ রাউন্ড টিয়ারসেল ও ১০৮ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। হামলায় জড়িত সন্দেহে রাতেই ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
ছাতক থানার ওসি শেখ নাজিম উদ্দিন জানিয়েছেন, রোববার বিকালে জানিয়েছেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। মামলা হবে। হামলার পরপরই পৌর শহরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খবর পেয়ে গভির রাতেই ছাতক থানা পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান, ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী, সিনিয়র এএসপি বিল্লাল হোসেন তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, হেফাজতের ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মামুনুল হককে নারায়নগঞ্জে আটক করা হয়েছে এমন খবর পেয়ে ছাতক পৌর শহরে সশস্ত্র বিক্ষোভ মিছিল করে হেফাজতে ইসলামের অনুসারীরা। মিছিলকারীরা শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে এসে পুলিশকে ধাওয়া দেয়। পয়েন্টে থাকা ৫-৬ জন পুলিশ সদস্য এসময় পাশের দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেয়। হামলাকারীরা দোকানে গিয়ে পুলিশকে মারতে উদ্যোত হয়। দোকানী জমির উদ্দিনের আল আমিন ষ্টোর, বিশ্বজিত ঘোষের রাধারানী এন্টারপ্রাইজ, রতনমনি ঘোষের সুশিলা ষ্টোর ও রাজন ঘোষের এনআর ফার্মায় ভাংচুর চালায় তারা। স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে এক পর্যায়ে পিছু হটে হেফাজত কর্মীরা।
হামলাকারীদের একটি অংশ ছাতক থানায় গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে করতে থানা কমপ্লেক্সের ভেতর ঢুকে থানার সেবা চত্বরে ভাংচুর চালায়। ইট-পাথরের আঘাতে ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, কনস্টেবল রাকিব উদ্দিন, সাইদুল ইসলাম, দিলশাদ মিয়া, রবিউল আলম ও সুবল দাস। হামলাকারীদের তাণ্ডবে দোকান কর্মচারী আলী আহমদসহ অন্তত ১৫ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের ছাতক হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জয়নাল আবেদীন (২৮), রাজন আহমদ (২৬), একরাম হোসেন (২২), সামছুদ্দিন (২৩), সুমন আহমদ (২০), আলী হোসেন (২৮), মোস্তাফিজুর রহমান ফাহিম (১৯), জনি আহমদ (১৯) ও আবুল হোসেন(৩০)কে আটক করে পুলিশ।
হেফাজত ইসলামের ছাতক উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুল হান্নান দাবি করেছেন, এই হামলার ঘটনার সাথে হেফাজতের কোন সম্পৃক্ততা নেই।
ছাতক থানার ওসি শেখ নাজিম উদ্দিন বলেন,‘রাতে থানায় অতর্কিত কয়েকশ সশস্ত্র মানুষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এতে পাঁচজন কনস্টেবল আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৬ রাউন্ড টিয়ারসেল ও ১০৮ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। হামলায় থানার গোলঘর ও শহরের চারটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।



