ছাতকে ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসলহানি

ছাতক প্রতিনিধি
পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়ন্ত্রিত ছাতকের ৩টি হাওরের ১০ সহ¯্রাধিক হেক্টর বোরো ফসল পুরোটাই এখন পানিতে নিমজ্জিত। হাওর রক্ষা বাঁধ ভাঙ্গা বন্ধকরণ ও সংস্কার কাজে এ মৌসুমেও প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা সরকারি বরাদ্দ দেয়া হলেও সিকি পরিমাণ কাজও হয়নি বলে হাওর পাড়ের কৃষকরা অভিযোগ তুলেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক জাউয়াবাজার ইউনিনের ডেকার হাওর, নোয়ারাই ইউনিয়নের নাইন্দার হাওর ও সিংচাপইড় ইউনিয়নের চাউলীর হাওর রক্ষায় বেড়িবাঁধ সংস্কারে প্রতিবছরই লক্ষ-লক্ষ টাকা সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ঠিকাদার ও পিআইসি’র যোগসাজেসে নামমাত্র কাজ করে প্রতিবছর সরকারী বরাদ্দের সিংহভাগ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়ে যাচ্ছে তারা।
জানা যায়, কাজের বিল চেকের মাধ্যমে উত্তোলনের আগেই ঠিকাদারদের নগদে ঘুষের টাকা পরিশোধ করতে হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের। অন্যথায় চেকে তারা স্বাক্ষর করেন না বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী জনৈক ঠিকাদার জানিয়েছেন। এদিকে কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল রক্ষার বিষয়টি তোয়াক্কা না করে পানি উন্নয়বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে তাল          মিলিয়ে ঠিকাদাররাও দায়সারা কাজের মাধ্যমে সরকারী টাকা আত্মাসাৎ করে যাচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, বেড়িবাঁধ নির্মাণের নামে প্রতি বছরই সরকারী লক্ষ-লক্ষ টাকা হরিরলুট হচ্ছে। আর হাওর রক্ষা বাঁধের কারণে ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে এখানের কৃষক। কিন্তু লুটপাটকারীরা সর্ব ক্ষেত্রেই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে হাওর সমুহে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামত ও বাঁধ ভাঙ্গা বন্ধকরণ কাজ বাস্তবায়নে ১৮লক্ষ ছিয়ানব্বই হাজার ১শ’৩৩ টাকা সরকারী বরাদ্দ দেয়া হয়। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় নোয়ারাই ইউনিয়নের নাইন্দার হাওড়। নোয়ারাই ইউনিয়নসহ দোয়ারাবাজার উপজেলার আরো ক’টি ইউনিয়নের মানুষের বছরের খাবার আসে নাইন্দার হাওড় থেকে। এ হাওড় থেকে শুস্ক মৌসুমে ধান আর বর্ষায় মাছ আহরণ করে বেঁচে থাকে ছাতক-দোয়ারার কয়েক লক্ষ মানুষ। নাইন্দার হাওরের বিছনাইড় পাড় থেকে লক্ষ্মীবাউর খাল পর্যন্ত ০.১৪০ কিমি বাঁধ মেরামত ও বাঁধ ভাঙ্গা বন্ধকরণ কাজে বরাদ্দ দেয়া হয় ৭লক্ষ ৭৬ হাজার, ২১৯ টাকা। এখানে সিকি পরিমাণ কাজও এ বছর হয়নি বলে স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ তুলেছেন। ডেকার হাওর দু’টি অংশে পৃথক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জাউয়াবাজার ইউনিয়ন অংশের মাছুখালী থেকে ঘইড়ডুবা পর্যন্ত ০.১৫০ কিমি হাওর রক্ষা বাঁধ মেরামত ও বাঁধ ভাঙ্গা বন্ধকরণ কাজে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩লক্ষ ৭১ হাজার ৬০৯ টাকা, চরমহলা ইউনিয়নের অংশে কামরাঙ্গী, চরদুর্লভ ও চরবাড়–কা পর্যন্ত ০.২৬৭ কিমি বাঁধ মেরামত ও বাঁধ ভাঙ্গা বন্ধকরণ কাজে বরাদ্দ দেয়া হয় ৪লক্ষ ৯৪ হাজার ২৯৪ টাকা এবং সিংচাপইড় ইউনিয়নের চাউলীর হাওর রক্ষা বাঁধ মেরামত ও বাঁধ ভাঙ্গা বন্ধকরণ কাজে ২ লক্ষ ৫৪ হাজার ১১ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগএসব হাওর রক্ষা বেড়িবাঁধে শতকরা ৫ ভাগ কাজও করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন।