ছাতকে ৩ মাস ধরে সাবরেজিস্ট্রার নেই- ভূমি রেজিস্ট্রিতে দুর্ভোগ

বিজয় রায়, ছাতক
ছাতকে প্রায় সাড়ে ৩ মাস ধরে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় ভূমি রেজিস্ট্রিতে দুর্ভোগ বাড়ছে। প্রতিদিন ভূমি রেজিস্ট্রি করতে আসা দাতা-গ্রহীতাদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে। প্রায় ৩ মাস আগে এখানের সাব-রেজিস্ট্রার বদলির পর এ পদে নতুন কেউ যোগদান না করায় ভোগান্তির মাত্রা ক্রমেই বেড়ে চলছে। অনেকেই বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রবাসে যাওয়ার বিষয় ও প্রয়োজনীয় অনেক ক কাজে ভূমি ক্রয়-বিক্রয়ের উপর নির্ভরশীল হয়ে আছে। সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় এসব ভূমি মালিকগণ চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত দলিল রেজিস্ট্রি না হওয়ায় অর্ধ শতাধিক ডিড রাইটার ও তদের সহযোগি এবং এ কাজে সংশ্লিষ্ট অনেকেই অলস বসে দিন কাটাচ্ছেন।  ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারও লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানা গেছে, ছাতক উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে     
সর্বাধিক পরিমাণে দলিল রেজিস্ট্রি ও সরকারি রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে। গত ৩১জুলাই সাব-রেজিস্ট্রার শাহ নেওয়াজ খাঁন বদলির পর ময়মনসিংহ জেলার হায়দার আলী খাঁনকে ছাতক উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগদানের কথা থাকলেও তিনি যোগদান করেননি। গত ২১আগস্ট তেকে তাহিরপুর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার রাজিব মজুমদার প্রতি সপ্তাহে এক কর্মদিবস করে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত এ কর্মকর্তাও বর্তমানে দু’মাসের জন্য ঢাকায় ট্রেনিংয়ে চলে গেছেন। এরপর জামালগঞ্জ উপজেলার অমায়িক বড়–য়াকে ছাতকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হলেও তিনি মাত্র দু’দিন এসেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে জগন্নাথপুর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার শওকত হোসেনকে ছাতক সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি মাসের প্রথম রোববার সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সাব-রেজিস্ট্রার আসেননি। তাই দলিল রেজিস্ট্রিসহ সকল অফিসিয়াল কাজে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা।
দলিল লিখক সমিতির সুনামগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি শাহাজুল ইসলাম ও ছাতক উপজেলা সেক্রেটারি হাজি সাদেক আহমদ জানান, সপ্তাহের প্রতিদিন ৩০/৩৫টি দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে। স্থায়ী রেজিস্ট্রার না থাকায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওলিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ছাতকে স্থায়ী ভাবে সাব-রেজিস্ট্রার দেয়ার বিষয়ে একাধিকবার জানানো হলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না। ফলে দিন দিন ভূমি রেজিস্ট্রি করতে আসা জনসাধারণের দুর্ভোগ বাড়ছে।