স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেও জেলার সবকয়টি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে যাচ্ছিল। দেশে বৃষ্টিপাত কম হলেও উজানের মেঘালয় চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় ঢলের পানি নামা অব্যাহত রয়েছে। সুরমাসহ সীমান্ত নদী উপচে গত চারদিনে অনেক উচু এলাকার ফসলি জমিও প্লাবিত করেছে। ভারতের চেরাপুঞ্জির নিকটবর্তী সুনামগঞ্জের ছাতক—দোয়ারায় পাহাড়ি নদীসহ সুরমা উপচে এই দুই উপজেলার সড়ক ও প্রত্যন্ত এলাকা প্লাবিত হয়েছে বেশি। জেলার ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সঙ্গে সারাদেশের সরাসরি সড়ক যোযোগ বন্ধ হয়ে আছে। সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দোয়ারা, বিশ^ম্ভরপুর, তাহিরপুর ও শান্তিগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ— ছাতক সড়কে পানি ওঠায় ছাতকের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে আছে। ছাতক—দোয়ারার সড়কে পানি ওঠায় দোয়ারাবাজারের সঙ্গেও সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

জেলা কৃষি স¤প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম জানিয়েছেন, গেল চারদিনের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে ৬৭৫ হেক্টর ধান, ৭০ হেক্টর বাদাম, ৫০ হেক্টর সবজি ও ৪০ হেক্টর আউশ বীজতলা ডুবেছে।
ছাতকের তিনটি ও দোয়ারাবাজারের তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে শতাধিক বন্যার্ত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, আকস্মিক বন্যায় ছাতক—দোয়ারাবাজার প্লাবিত হয়েছে। কিছু সড়ক ও বাড়িঘরেও পানি ওঠেছে। বন্যা কবলিতদের পাশে রয়েছে সরকার ও প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কেবল ছাতক দোয়ারায় নগদ সাড়ে ছয় লাখ টাকা, ২০ টন চাল ও দুই হাজার বস্তা শুকনো খাবার পেঁৗছে দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে যাচ্ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টি হয়েছে ৫৬ মিলিমিটার।


