ছাতক শহরের ২ টি মন্দিরে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে হামলা

ছাতক প্রতিনিধি
‘মালাউন-ফেরাউন’ এধরণের উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে ছাতক শহরের দু’টি মন্দিরে হামলা করেছে কিছু মানুষ। সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬ টায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় শহর জোড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। কোন কোন এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা পৌনে ৬ টায় শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে শতাধিক লোক লাঠিসোটা নিয়ে উসকানিমূলক স্লোগান দিতে দিতে শহরের মন্ডলীভোগস্থ কালীবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাংচুর চালায়। কালীমন্দিরের লোহাড় গ্রিলের দরজা বন্ধ থাকায় মন্দিরের কোন ক্ষতি করতে পারেনি এরা। হামলাকারীরা কয়েকটি বসতঘরে ভাংচুর করেছে। হামলার সময় কালীবাড়ীর অভ্যন্তরে বসবাসরত ১৫-২০টি পরিবারের লোকজন দরজা-জানালা ও বাতি নিভিয়ে দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। পরে তারা শহরের মহাপ্রভুর আখড়ায় হামলা চালায়। আখড়ার প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ফটক ভাঙার চেষ্টা করে তারা।
খবর পেয়ে পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শেখ হাফিজুর রহমান,  
ছাতক থানার ওসি আশেক সুজা মামুন, প্যানেল মেয়র তাপস চৌধুরী, পৌর কাউন্সিলর জমিম উদ্দিন সুমেনসহ ছাতকের বিশিষ্টজন ঘটনাস্থলে যান।
সহকারী কমিশনার(ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা করা কোন ধর্মপ্রাণ মানুষ সমর্থন করবে না। এ ধরনের হামলা একটি নিন্দনীয় ও অপরাধমুলক কর্মকা- হিসাবেই গণ্য হবে। বিষয়টি আইনগতভাবে দেখা হবে।’
পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন,‘মাগরিবের নামাজের সময় কালীবাড়ি এলাকায় ফটকা ফুটানো হয়েছিল। পরে পাশের মসজিদ থেকে কিছু লোক গিয়ে মন্দিরে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। তবে মন্দিরের কোন ক্ষতি হয়নি। পরে থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে দেন’।