স্টাফ রিপোর্টার
সোনারগাঁও কাণ্ডে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার ঘটনায় আটককৃত বাদাঘাট ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা এমদাদ জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাগিব নূর তাকে জামিন দেন। উল্লেখ গত ৪ এপ্রিল রবিবার দুপুরে তাহিরপুর থানা পুলিশ বাদাঘাট ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা এমদাদ আহমেদ জয় কে আটক করেছিল। এমাদ উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ভোলাখালী গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা জজ মিয়ার ছেলে। এছাড়াও তিনি বাদাঘাট ইউনিয়ন যুবলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক।
এদিকে তাহিরপুরের যুবলীগ নেতা ছাড়া পাওয়ার পর জেলা যুবলীগের আহবায়ক খায়রুল হুদা চপল এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, সোনারগাঁও কা-ে হেফাজত নেতার বিরুদ্ধে পোস্ট দেবার জের ধরে তাহিরপুরের মুক্তিযোদ্ধা সন্তান বাদাঘাট ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা এমদাদকে আটক ও মামলার ঘটনায় আমরা হতবাক। দেশ জুড়ে সোনারগাও কান্ডে হেফাজত নেতা ও তার কথিত স্ত্রীর ছবি ভাইরাল হয়েছে। পোস্ট ও শেয়ার করেছে অগুণিত মানুষ। জাতির সামনে সত্য উদ্ভাসিত হয়েছে। আমাদের নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাও গত রবিবার মহান জাতীয় সংসদে ধর্মব্যবায়ীদের মুখোশ উন্মোচন করে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন।
কিন্তু এমন সময়ে তাহিরপুর থানা পুলিশ হেফাজত নেতার এই পোস্ট শেয়ারের জের ধরে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও যুবলীগের তৃণমূলের পরীক্ষিত কর্মীর বিরুদ্ধে আইনি যে ব্যবস্থা নিয়েছে তা নিন্দনীয়। মহান মুজিববর্ষে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তিতে দেশের জন্মযুদ্ধের লড়াকু সৈনিকের সন্তানের সঙ্গে এমন অন্যায় আচরণে আমরা ক্ষুব্দ ও হতাশ। সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধারা ধর্ম বর্ণ পরিচয় ছাপিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন। অসাস্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ছেলের সঙ্গে অন্যায় আচরণ কাম্য ছিল না।
আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আইনি প্রক্রিয়ায় আমাদের কর্মীকে কিছুক্ষণ আগে জামিনে মুক্ত করিয়েছি। ধর্মান্ধদের মুখোশ উন্মোচন করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের এই যুবলীগের নেতা সেই সঠিক কাজটি করেছিল।
যারা ধর্মের ভুল ব্যখ্যা করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ভাংচুর, হামলা, লুটপাট করছে, দেশের ক্ষতি করছে দেশবিরোধী সেই শক্তির বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার হোক এই কামনা করি।


