আকরাম উদ্দিন
ঈদ উপলক্ষে সরকার ঘোষিত ৯ দিনের সরকারি ছুটি শেষ হলেও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের কয়েকজন ডাক্তার এখনও ছুটি কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা রোগীরা সেবা নিতে আসলেও ডাক্তার না পেয়ে অনেকেই বাড়ি ফিরে গেছেন। হাসপাতালে রোগীদের ভিড় জমে উঠেছিল। ডাক্তার না থাকায় ভোগান্তির শিকার হন এসব রোগী।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রবিবার গাইনী বিভাগের ডা. মোজাফফর আহমদ অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি ছুটি কাটিয়ে এখনও হাসপাতালে উপস্থিত হন নি। তাই হাসপাতালের কক্ষে দায়িত্ব পালন করেন অন্যান্য ডাক্তার। ডা. মোজাফফর আহমদ না আসায় গাইনী বিভাগের রোগী দেখার দায়িত্বে থাকেন ডাক্তার রৌশন আরা পারভীন। তিনি দায়িত্ব পালনকালে সকাল সাড়ে ১০টায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তিনি চলে যান বাসায়। পরে রোগী দেখার দায়িত্বে থাকেন ডা. ইন্দ্রানী রায়। তবে গাইনী চিকিৎসক মোজাফ্ফর আহমদ অনুমোদিত ছুটিতে ছিলেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আরএমও ডা. রফিকুল ইসলাম।
এদিকে, অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক ডা. রফি আহমদের রুম তালাবদ্ধ দেখা যায়। তিনিও সরকার ঘোষিত ছুটি কাটিয়ে এখনও আসেন নি বলে জানান হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী। ডাক্তার রফি আহমদ হাসপাতালে উপস্থিত থাকলেও রোগী খুবই কম দেখেন বলে অভিযোগ করেন হাসপাতালে আসা একাধিক রোগী।
পাশের রুমের ডা. বিষ্ণু প্রসাদ চন্দ হাসপাতালে উপস্থিত থাকলেও রুমে ছিলেন না। তিনি হাসপাতালের খাতাপত্রে হাজির থাকলেও রোগী দেখেন নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কক্ষ তালাবদ্ধ করে আবাসিক চিকিৎসকের কক্ষে গিয়ে সময় কাটিয়েছেন বলে জানা গেছে। উপস্থিত একাধিক রোগী অভিযোগ করে বলেন, প্রায়ই ডাক্তার বিষ্ণু প্রসাদ চন্দকে রোগীরা খোঁজে পান না।
তবে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সামিউল হক রবিবার রোগী দেখেছেন। কিন্তু দুপুর দুইটা বাজার ১৫ মিনিট আগেই তড়িঘড়ি করে কক্ষ থেকে বেরিয়ে চলে যান।
সদর উপজেলার বনগাঁও থেকে আসা রোগী আব্দুর রহীম বলেন,‘ডাক্তার রফি আহমদের রুম প্রায়ই তালাবদ্ধ থাকে। আমি যতদিন এসেছি, তাঁকে একদিনও পাইনি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে গেছি। অথচ একই সময়ে পাশের রুমে সামিউল সাব শিশু রোগী দেখছেন। ’
হালুয়ারঘাট থেকে আসা রোগী ইব্রাহীম আলী বলেন,‘ডাক্তার বিষ্ণু প্রসাদ চন্দকে খুঁজছি ঘন্টাখানেক ধরে। কিন্তু তাকে খোঁজে পাইনি। তিনি আরএমও’র সাবের রুমে ঢুকেছেন আর বের হচ্ছেন না।’
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন,‘সদর হাসপাতালে মেডিকেল অফিসারের সংকট রয়েছে। এই সংকট দূর করার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। ঈদের পর ছুটি শেষে সবাই যোগদান করছেন। রবিবার ডা. এনামুল হক ও পরিতোষ সরকারসহ আরো অনেকেই আউটডোরে রোগী দেখেছেন। বিশেষজ্ঞ ডা. বিষ্ণু চন্দ ও সামিউল হকসহ আরো যারা উপস্থিত ছিলেন তারা সবাই রোগী দেখেছেন। গাইনী চিকিৎসক মোজাফ্ফর আহমদ ও অর্থোপেডিক্সের ডা. রফি আহমদ ছুটিতে ছিলেন।’


