জগন্নাথপুর অফিস
শিক্ষার আলো ছড়াতে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার বাধা পেরিয়ে জগন্নাথপুরের দুই ক্ষুদে শিক্ষা সংগ্রামী অংশ নিয়েছে এবারের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায়। দুইজনের মধ্যে একজন দৃষ্টিহীন অপরজন বাকপ্রতিবন্ধী। তারা স্বপ্ন দেখছে পড়াশোনা করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি আলোকিত সমাজ নির্মাণে ভূমিকা রাখার। রবিবার দুপুরে জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া
আটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পিএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরির্দশনকালে এ প্রতিবেদককে তাদের এমন আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
সরেজমিন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনকালে দেখা যায়, কলকলিয়া ইউনিয়নের বালিকান্দি উপ-আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমাপনী পরীক্ষার্থী অর্ধ দৃষ্টিহীন সাবির আহমদ ডান চোখে দেখে কিন্তু বা’চোখে দেখে না। তারপরও লেখার গতি থামছে না তার। মনযোগ দিয়ে প্রথম দিনের ইংরেজী পরিক্ষা দিচ্ছে সাবির আহমদ। সে বালিকান্দি গ্রামের কৃষক আরজ মিয়ার ছেলে। একই পরীক্ষা কক্ষে আরেক বাকপ্রতিবন্ধি শিশু গভীর মনোযোগ দিয়ে উত্তরপত্র সুন্দরভাবে লিখে যাচ্ছে। তার নাম নাম হানিফা বেগম। বাক প্রতিবন্ধি এ শিশুর বাবা বালিকান্দি গ্রামের দিনমজুর ফজর আলী।
পরীক্ষা শেষে অর্ধদৃষ্টিশক্তিহীন শিশু সাবির আহমদ বলেন, ‘সব বাধা পেরিয়ে আমি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দৃষ্টিহীন মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। এ জন্য আমি আরো কঠিন পরিশ্রম করব। যাতে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাতে পারি।
বাকপ্রতিবন্ধি শিশু হানিফা বেগম লেখা পড়া করে কী হতে চাও চানতে চাইলে সে একটি কাগজে লিখে জানায়, লেখাপড়া করে অসহায় নারীদের কল্যাণে কাজ করতে চাই। তার ইচ্ছা সে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে কাজ করবে।
উভয় প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীর স্কুলের শিক্ষিকা বালিকান্দি উপ-আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রহিমা বেগম জানান, কথা বলতে না পারলেও স্কুলের একজন মেধাবী ছাত্রী হানিফা। সে ভাল ফলাফলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে। অপরদিকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাবির একজন দূরন্ত প্রকৃতির শিশু। শিক্ষিকা রহিমা বেগম আরো বলেন, সাধ্য অনুযায়ী আমরা এই দুই শিক্ষার্থীদের সব রকম সুযোগ সুবিধাও দিচ্ছি।


