জগন্নাথপুরের বাসুদেববাড়ীর ৭০ স্বেচ্ছাসেবক ১০ দিন ধরে হাওরে স্বেচ্ছাশ্রমে ধান কাটছেন

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার কৃষকরা শ্রমিক সংকটে যখন পাকাধান নিয়ে বেকায়দায় তখন কৃষকদের পাকাধান কাটতে স্বেচ্ছাশ্রমে মাঠে নামেন পৌর এলাকার বাসুদেব বাড়ী আবাসিক এলাকার তরুণ, যুবক বিভিন্ন স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী,ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ৭০ নাগরিক।
সামাজিক দায়বদ্বতা থেকে তারা স্বেচ্ছায় ধান কাটছেন। গত ১০ দিন ধরে পিংলার হাওরে কমপক্ষে ২৫ জন কৃষকের দেড়শ কেদার (৩০ শতাংশে এক কেদার) জমির ধান বিনাপারিশ্রমিকে কেটে দিয়েছেন তারা। আজ শুক্রবার পিংলার হাওরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া শিক্ষার্থী,ব্যবসায়ী কর্মহীন ৭০ জন আপন মনে ধান কাটছেন। ধান কাটার কাজের ফাঁকে কথা হয় স্বেচ্ছাসেবক দলের দলনেতা দ্বিপক কুমার দে এর সঙ্গে। তিনি জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমনে পাকাধান নিয়ে যখন কৃষকরা বিপাকে তখন তাদের সহযোগিতা করতে এলাকার স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী ব্যবসায়ী যুব সমাজকে ধান কাটতে আহ্বান জানালে। স্বতস্ফূর্তভাবে সবাই এগিয়ে আসে। ৭০ জনের স্বেচ্ছাসেবক টিম নিয়ে প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত আমরা কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছি।গত ১০ দিনে দেড়শ কেদার (৩০ শতকে এক কেদার) জমির ধান কেটেছি।
স্বেচ্ছাশ্রমে ধানকাটা দলের আরেক দলনেতা শাহ রুহেল মিয়া জানান,ধানকাটার এ কাজকে আমরা আনন্দ মনে গ্রহণ করেছি। নতুন অবস্থায় ধান কাটতে গিয়ে কমপক্ষে ১০ জনের হাতের আংগুল ও পা কেটে সেলাই দিতে হয়েছে। তারপরও সবাই ধানকাটার কাজ থেকে বিরত থাকেনি।
রুহেল,রবি দে,বিরাজ দাস,সুবল দে,বিশ্ব ভট্টাচার্য্য ,অনন্ত গোপ,মখদ্দুছ মিয়া,প্রনব দে,অসিম দে,বিপ্লব চৌধুরী , ময়ূখ ভট্টাচার্য্য, প্রান্তুষ দে,রনি দাস,শাওন দাস খোকন দেবনাথ,শুভন সরকারসহ স্বেচ্ছাসেবকরা জানায় প্রতিদিন দুপুরে তাদের মধ্যে থেকে কেউ না কেউ খাবারের আয়োজন করে থাকে। কৃষকদের কাছ থেকে তারা কোন সুবিধা নেন না। তাদের মধ্যে রুহেল,বিরাজ সুবল প্রনব,শাওন আহত।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী শাওন দাশ জানান, জীবনের প্রথম একসঙ্গে সবার সঙ্গে ধান কাটতে গিয়ে কোন কষ্ট মনে হয়নি বরং ভালোই লাগছে।
কথা হয় কৃষক দুলন মিয়া,আরশ আলীোর সঙ্গে তিনি জানান,স্বেচ্ছাসেবকরা আজ আমার ছয় কেদার জমির ধান কেটে দিয়েছেন। প্রতিদিন আমারমতো আরো কৃষকের জমির পাকাধান স্বেচ্ছাশ্রমে কেটে দিচ্ছেন। আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার জানান বাসুদেব বাড়ী এলাকার স্বেচ্ছাসেবক টিমটি উপজেলার স্বেচ্ছাশ্রমে ধান কাটার অন্যতম একটি টিম। ৭০ জনের এ দল কৃষি বিভাগের আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাওরে ধান কেটে দেওয়ায় তাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। হাওরে গিয়ে তাদের কে অভিনন্দন জানিয়ে এসেছি।