জগন্নাথপুরের মইয়ার হাওরে ধান কাটল ছাত্রলীগ-যুবলীগ

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরের মইয়ার হাওরে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অসহায় দরিদ্র কৃষকদের পাকা ধান কেটে দিয়েছে।


বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ছাত্রলীগের সভাপতি সাফরোজ ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শাহ রুহেলের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২২ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী উপজেলার মইয়ার হাওরের হবিবনগর এলাকায় দরিদ্র কৃষক আলী হোসেনের দেড় কেদার এবং আরেক কৃষক ফারুক মিয়ার দেড় কেদার জমির পাকা ধান কেটে দিয়েছেন।


অপরদিকে একই হাওরে পৌর যুবলীগের সৈয়দ জিতু মিয়ার নেতৃত্বে একই হাওরে পৌর যুবলীগের নেতা কর্মীরা কৃষক সিরাজ মিয়া ও শহীন মিয়ার পাকা বোরো ধান কেটেছেন।


মইয়ার হাওরের কৃষক সিরাজ মিয়া, শহীন মিয়া, হোসেন আলী ও ফারুক মিয়া জানান, শ্রমিক সংকটের কারণে ক্ষেতের পাকা ধান নিয়ে দু:শ্চিন্তায় ভোগছিলেন তারা। আজকে স্বেচ্ছাশ্রমে জমির ফসল কাটা হয়েছে।


পৌর যুবলীগ লীগ নেতা সৈয়দ জিতু মিয়া জানান, শ্রমিক সংকটের জন্য আমাদের কৃষকরা হাওরের পাকা ফসল নিয়ে বিপাকে আছেন। তাঁদের পাশে দাঁড়াতে আমরা ২০ জন পৌর যুবলীগের নেতাকর্মীরা দরিদ্র দুই কৃষকের তিন কেদার জমির পাকা ফসল কেটে দিয়েছি।


জগন্নাধপুর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাফরোজ ইসলাম বলেন, একদিকে কনোনাভাইরাসের ভয়। অন্যদের শ্রমিক সংকট। এরমধ্যে আগাম বন্যার শঙ্কায় হাওরের পাকা ফসল নিয়ে দিশেহারা কৃষকরা। তিনি বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অসহায় দরিদ্র কৃষকদের তিন কেদার জমির পাকা ফসল কেটে দিয়েছি। এতে কৃষক যেমন আনন্দিত হলেন, তেমনি আমরাও তৃপ্তি পেয়েছি কৃষকের পাশা দাঁড়াতে পেরে।


জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুদদার বলেন, জগন্নাথপুরের প্রতিটি হাওরে এখন ধান কাটার ধুম পড়েছে। শ্রমিক সংকট এড়াতে প্রতিদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ কর্মহীন মানুষ এবং স্থানীয় শ্রমিকরা ধান কাটছেন। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। এবার জগন্নাথপুরে ২০ হাজার ৫শত হেক্টর বোরো ফসলের আবাদ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।