অমিত দেব
বোরো ফসলের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষি বিভাগের উৎসাহে জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষকরা আমন ধান চাষে মনোযোগী হয়েছিলেন আমনের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে কিছুটা হলেও হাসির ঝিলিক দেখা গেছে।
সম্প্রতি কৃষি বিভাগের উদ্যোগে রানীগঞ্জের গন্ধর্বপুর হাওর থেকে নবান্ন উৎসবের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কাটা শুরু করলে বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটার ধুম পড়েছে।
গত দু’বছর ধরে অকাল বন্যায় বোরো ফসল হারিয়ে হতাশাগ্রস্ত কৃষকরা চাষাবাদে অমনোযোগী হয়ে পড়লে কৃষি বিভাগের উৎসাহে অনেকেই এবার আমন চাষাবাদে মনোযোগী হন। অনেক প্রতিকূলতার পর আমনের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মধ্যে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। বোরোর পাশাপাশি এখন থেকে কৃষকরা আমনের দিকে ঝুঁকবেন বলেও আশা করছেন কৃষি বিভাগের লোকজন।
আমন ধান অধ্যূষিত উপজেলার কলকলিয়া, পাটলী, মীরপুর, রানীগঞ্জ, পাইলগাঁও, আশারকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওরে কৃষকেরা মনের আনন্দে ধান কাটছেন। তারা এবার কৃষকের ধানকাটা ও মাড়াইয়ে অত্যাধুনিক মেশিন ব্যবহার করছেন। ধান কাটছেন মেশিনে মাড়াইও দিচ্ছেন মেশিনে।
উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, ১২ কেদার জমিতে বোরো চাষাবাদ করেছিলাম এক ছটাক
ধানও কাটতে পারিনি। ভয়ে ভয়ে ছয় কেদার জমিতে আমন চাষাবাদ করেছি। সোনালী ধানে মনটা ভরে উঠেছে। ধান কাটা শুরু হয়েছে। তিন কেদার জমির ধান কেটে মাড়াই দিচ্ছি।
রানীগঞ্জ হাওরের কৃষক হাছান আহমদ বলেন,‘আমি ১২ কেদার জমিতে আমন ধান করেছিলাম, ফসল ভাল হয়েছে, ইতিমধ্যে ৬ কেদার কাটা হয়ে গেছে।’
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলার ৮ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন,‘বোরো ফসল হারানোর ক্ষতি পোষাতে আমরা পরামর্শ নিয়ে উন্নত প্রযুক্তির উপসী জাতের ধান আবাদ করায় ভাল ফলন পেয়েছেন। এবার লক্ষ্যমাত্রার অধিক আমন হয়েছে।’
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন,‘ জগন্নাথপুরে এবার আমনের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। এতে বোরো ফসল হানির ক্ষতি কিছুটা হলেও লাঘব হবে।’


