জগন্নাথপুরে উৎসবের বদলে বেদনার সুর

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুূয়াসহ উপজেলার সব ক’টি হাওরে ফসলডুবি ঘটনায় নতুন বছরের কোন উৎসব ছিলনা না পুরো উপজেলাজুড়ে। তবে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিষদের  ভেতরে কোনো ধরনের বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই মঙ্গল শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পহেলা বৈশাখ কে স্বাগত জানিয়ে প্রতিবছরই জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে দিনব্যাপি নানা আয়োজনের  মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানাদিও আয়োজন থাকত।
নলুয়া হাওরপাড়ের ভূরাখালি গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা হাওর উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দেকুর রহমান জানান, চৈত্র মাসের শেষের দিকে এবং বৈশাখের শুরুতে হাওরের বুকে ফসলের ঢেউ বইতে থাকে।     
 সোনালি পাকা ফসলের মৌ মৌ গন্ধে উৎসাহ উদ্দিপনায় কৃষকরা ফসল কেটে গোলায় তুলতে পুরোদমে ব্যস্ত থাকেন। নতুন বছরের প্রথম দিনে কৃষকের ঘরে ঘরে গ্রামীণ পিঠা তৈরী করা হয়। হাসি খুশিতে হাওরপাড়ার বাসিন্দারা মেতে উঠেন।  কিন্তু এবার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে হাওরের ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা নির্বাক হয়ে গেছে।
চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, প্রতিবছরই উৎসব বিরাজ করে হাওরে। এবারই ধান পাকার আগেই পানিতে ফসলহানির ঘটনায় কৃষকরা শোকাহত। কোথাও আনন্দ উৎসব নেই। কেবলই বেদনার সুর শুনা যাচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ জানান, উপজেলার প্রায় সব’টি হাওরের ফসলহানির ঘটনায় উপজেলাবাসী শোকাহত। তাই কোন ধরনের উৎসব ছাড়াই একদম ছোট আকারে আমরা প্রশাসনের ব্যানারে উপজেলা চত্ত্বরের ভেতরে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা করেছি।