জগন্নাথপুরে এবার ব্যতিক্রমী নির্বাচন- প্রার্থীরা রাজনৈতিক কর্মী হওয়ায় টাকা উড়ছে কম

বিশেষ প্রতিনিধি ও জগন্নাথপুর অফিস
প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবারই প্রথম স্থানীয় রাজনীতিকদের লড়াই হচ্ছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং স্বতন্ত্র ৩ প্রার্থীই স্থানীয় অঙ্গনে পরিচিত রাজনীতিবিদ। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ বড় দলের দলীয় প্রার্থীগণসহ অন্যরাও রাজনৈতিক কর্মী। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও রাজনীতি সচেতন। আগামী ৬ মার্চ এই উপজেলা পরিষদের এক লাখ ৬৭ হাজার ৪৯৯ জন ভোটার ৮৭ কেন্দ্রে ভোট দেবেন। নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে জগন্নাথপুরে। প্রথা অনুযায়ী শেষ মুহূর্তে প্রবাসীরাও আসছেন নিজ নিজ সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে। তবে এবার টাকা উড়ছে কম।
ভোটাররা       
বলেছেন, বিগত ইউপি নির্বাচনেও উপজেলার ৭ জন বিজয়ী চেয়ারম্যানের ৬ জন ছিলেন লন্ডন প্রবাসী। কিন্তু এবার জগন্নাথপুরের সকল প্রার্থীই স্থানীয় অঙ্গনের সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী। এর মধ্য থেকে সৎ, যোগ্য এবং যাকে দিয়ে উন্নয়ন হবে তাকেই ভোট দেবেন তারা।
জগন্নাথপুর পৌরসভার পশ্চিম ভবানীপুরের বাসিন্দা শিশু মিয়া বললেন,‘ইবার কোন লন্ডনী প্রার্থী নাই। টাকা ছড়ানোরও প্রতিযোগিতা নাই। সকলেই রাজনৈতিক কর্মী। বক্তব্যও দিচ্ছেন রাজনৈতিক। ভোটাররা যাকেই গ্রহণ করবে, তিনিই হয়তো নির্বাচিত হবেন এবং পুরো মেয়াদ কালেই ভোটাররা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে কাছে পাবেন।’
উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের মজিদপুরের বাসিন্দা এমদাদুর রহমান সুমন বলেন,‘জগন্নাথপুরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সচরাচর যা হয় এবার তা কম হচ্ছে। প্রবাসীরা প্রচারণার জন্য নিজ নিজ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে আসা শুরু করেছেন। তবে প্রচারণায় টাকা ছড়ানোর প্রবণতা এখনো লক্ষ করা যায়নি।’
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি’র একক প্রার্থী থাকলেও সরকারী দল আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের আরো দুই নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। এ নিয়ে কোথাও কোথাও দলীয় কর্মী-সমর্থকরা বেকায়দায় পড়েছেন। অবশ্য. উপজেলা আওয়ামী লীগ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে সংগঠনের উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী মুক্তাদীর আহমদ মুক্তাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করেছে এবং স্বতন্ত্র ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামাল উদ্দিনকে বহিস্কার করার জন্য জেলা ও কেন্দ্রীয় যুবলীগকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানিয়েছে।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থীই জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে জানালেন, অতীতের কার্যক্রম বিবেচনায় এনে ভোট দেবেন জগন্নাথপুরের ভোটাররা।
বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আকমল হোসেন বললেন,‘আমি ৫ বছর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলাম। সততার সঙ্গে সাধ্য অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়েছি। এখন দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছে। আমি জগন্নাথপুর উপজেলাকে এই উন্নয়ন অভিযাত্রায় যুক্ত রাখতে চাই। জগন্নাথপুর উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তর করতে চাই।’
জেলা বিএনপি’র সাবেক সহসভাপতি, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আতাউর রহমান বলেন,‘আমি সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলাম। আমি ঐ ইউনিয়নের সেতু, কালভার্ট, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নসহ ইউনিয়নকে শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় এনেছি। আমি একজন মানবাধিকার কর্মী, যেখানেই দুর্বল মানুষ নির্যাতনের শিকার হন, আইনী সহযোগিতার জন্য আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছি। আমার বিশ্বাস জগন্নাথপুরবাসী আমাকে বঞ্চিত করবেন না’।
স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী, জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা বলেন,‘২ বছর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ ৭ বছর আমি দায়িত্ব পালন করেছি। উপজেলা পরিষদকে সম্মানজনক এবং গতিশীল প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তুলতে আমার ভূমিকা রয়েছে। অন্য প্রার্থীরা আমার চেয়ে বয়সে প্রবীণ হলেও অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতায় আমি তাঁদের চেয়ে এগিয়ে। এজন্যই জগন্নাথপুরবাসী আমাকে ভোট দেবেন।’
জেলা নির্বাচন অফিসার সাদেকুল ইসলাম বলেন,‘জগন্নাথপুরের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনেই ৩ টি পদে প্রথম দলীয় নির্বাচন হচ্ছে। আচরণবিধি মেনে যাতে প্রার্থীরা প্রচারণা চালান এজন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দ্রুতই পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন। টাকা ছড়ানোর মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি আমরা। লিখিত বা সুনির্দষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি সুনামগঞ্জের ইউনিয়ন পরিষদ গুলোতে এবং জেলা পরিষদে যেভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদেও সেভাবে হবে।’