আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরে প্রাণপণ চেষ্টা করেও রক্ষা করা গেল না একটি হাওর। নদীর পাড় উপচে হাওরে পানি ঢুকে আধাপাকা বোরো ফসল তালিয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে আহাজারি চলছে।
শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের আসামপুর এলাকায় নলজুর নদীর পাড় উপচে স্থানীয় একটি হাওরে পানি ঢুকছিল। হাওরের ফসল রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছে স্থানীয়রা। বিকেল ৫ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত পানি ঠেকাতে লড়াই চালান কৃষক ও এলাকাবাসী। শেষ পর্যন্ত পানির প্রবল চাপের কাছে হেরে যান সংগ্রামী কৃষকরা। হু হু করে পানি ঢুকছে হাওরে। ফলে ফসল পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে ।
রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আসামপুর গ্রামের স্থানীয় হালির হাওরে পানি প্রবেশ করে ক্ষেতের ফসল পানিতে ডুবে যাচ্ছে। স্থানীয় কিছু সংখ্যাক কৃষক আধাপাকা ধান কাটছেন। এসময় হাওরে কথা হয় আসামপুর গ্রামের কৃষক মোহন মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, হাওরে পানি ঢুকে যাওয়ায় ক্ষেতের আধাপাকা ধান আমার সন্তানদের নিয়ে কাটছি। যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে আজকের (গতকাল) দিনের মধ্যেই পুরো হাওর পানিতে তলিয়ে যাবে।
আরেক কৃষক মানিক মিয়া জানান, গত দুইদিন ধরে হাওররক্ষায় নদীর পানি ঠেকাতে আমরা লড়াই করছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা গেল না। তিনি জানালেন, এবছর ৬ কেদার জমিতে বোরো আবাদ করেছি। ধান না পাকায় কাটতে পারিনি। এরমধ্যে হাওরে পানি ঢুকে সব জমির ধান তলিয়েছে। সারাবছর দুঃখ কষ্টে থাকতে হবে বলে এই কৃষক জানিয়েছেন।
এলাকাবাীস জানায়, উজানের ঢলে নদ—নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত দুইদিন ধরে আসামপুর এলাকায় নলজুর নদীর পাড় দিয়ে পানি প্রবেশরোধে স্থানীয় কৃষকরা লড়ছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থান দিয়ে নদীর পাড় উপচে হাওরে পানি প্রবেশ করছিল। বিষয়টি স্থানীয় মসজিদের মাইকে জানানো হলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পানি ঠেকাতে কাজ করছিলেন। তাদের সহযোগিতা করতে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লোকজন নিয়ে চেষ্টা চালান। রাত ১২টার দিকে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে হাওরে হু হু করে পানি প্রবেশ করতে থাকে।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার পাটলী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েও হাওর রক্ষা করা যায়নি। এ হাওরের ৪০০ একর জমির আধাপাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। হাওরডুবিতে কৃষক পরিবারে আহাজারি দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার মাঠ কর্মকর্তা উপ সহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী জানান, যে স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করেছে ওই জায়গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, হালির হাওরে ৩৭০ একর জমিতে এবার আবাদ করা হয়েছে। এখনও হাওর তলিয়ে যায়নি। কৃষকরা ধান কাটছেন ।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা করেও হাওর রক্ষা করা যায়নি। দ্রুত ধান যাতে কৃষকরা গোলায় তোলতে পারেন এজন্য আমরা কিছু ধান কাটার শ্রমিক দিয়েছি।
এদিকে জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওরে আবারও কয়েকটি বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে পড়েছে। পানি বেড়ে যাওয়ায় শনিবার রাতে নলুয়া হাওরে নতুন করে ৯ ও ১৪ নম্বর প্রকল্পে ফাটল দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে কাজ চলছে। এছাড়াও ৫, ৬, ৭, ৯, ১৪, ২০ নম্বর বেড়িবাঁধসহ কমপক্ষে ১০টি বাঁধ ঝুঁকিতে আছে। জগন্নাথপুরের ইউএনও জানিয়েছেন, রাত থেকে এখন এখন পর্যন্ত হাওরেই আছি। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে কাজ চলছে।


