জগন্নাথপুরে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান- সামাদ আজাদের অনুসারীদের ভয় দেখাবেন না -মুকুট

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলা ও পৌরবাসীর উদ্যোগে জেলা পরিষদ নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যন নুরুল হুদা মুকুটের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান সোমবার জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের আবদুস সামাদ আজাদ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুল মনাফের সভাপত্বিতে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জয়দ্বীপ সুত্রধর বীরেন্দ্র’ ও ছালিক আহমদ ডনের যৌথ পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান। সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আইয়ুব বখত জগলুল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আজিজুস সামাদ আজাদ ডন, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম শামীম, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম, জেলা যুবলীগের আহবায়ক খায়রুল হুদা চপল, জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য সৈয়দ সাব্বির আহমদ, মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন নুরুল হক, আশারকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ আবু ঈমানী, কলকলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাসিম, অ্যাড. শফিকুল আলম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আংগুর মিয়া।
সভায় প্রধান অতিথি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নানামূখী উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে বিশ্ব জুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি একটি প্রসঙ্গে বলেছিলাম আজিজুস সামাদ ডন নাবালক ছেলে। এখন দেখছি সে বালক হয়ে গেছে। প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদের ছেলে তো নেতার মতোই হবে। আব্দুস সামাদ আজাদের মৃতে্যুর পর আজিজুস সামাদ ডন মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মী ও জনসাধারণের  মধ্যে ইতিমধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনায়ন দেওয়ার জন্য আমরা জননেত্রীর নিকট দাবি জানাবো।
সংবর্ধিত অতিথি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট সদ্য সমাপ্ত জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আমাকে নির্বাচিত করায় জগন্নাথপুর উপজেলাবাসীসহ সকল জনপ্রতিনিধির নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনাদের সার্বিক কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত রাখব। তিনি বলেন, ‘আব্দুস সামাদ আজাদ আমার রাজনৈতিক গুরু। প্রথমে আমি রাজনীতিতে আসতে চাইনি। নেতাই আমাকে রাজনীতিকে এনেছেন। আমার নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বির বাড়ি ছিল জগন্নাথপুর। আমার ভয় ছিল আমি এখানে ভোট পাব কী না কিন্তু সামাদ আজাদের অনুসারিদের সহযোগিতায় আমি বিজয়ী হয়েছি। তিনি হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, ‘পুলিশ ও পেশী শক্তির ভয় দেখিয়ে কোন লাভ হবে না। আমরা সামাদ আজাদের শিষ্য। আমাদের সাথে জনগণ আছে। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্যেশ্যে বলেন, ‘ কোন ভয় নেই। আগে আমার চেয়ার ছিল না । এখন চেয়ার পেয়েছি। সকল বাধা অতিক্রম করে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় প্রধান বক্তা সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আইয়ুব বখত জগলু বলেন, ‘যারা আব্দুস সামাজ আজাদের পাশে থেকে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছিলেন। তারা এখন সামাদ আজাদ কে ভুলে গেছেন। যারা কোন দিন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ রাজনীতি করেনি।  তাদের মধ্যে অনেকেই দলীয় টিকেট পেয়ে এমপিও হয়েছেন, মন্ত্রীও হয়েছে। আমরাও মেনে নিয়েছি। কারণ দলীয় সভানেত্রী বলেছিলেন আমাদেরকে খেলায় জিততে হবে। খেলায় ১১ জন খেলোয়ারের মধ্যে ৯ জনকেই অনেক সময় হায়ার করে আনতে হবে। কিন্তু দল থাকবে দলের নিবেদিতদের হাতে। তিনি সুনামগঞ্জের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে দলীয় কাঁদা ছুড়াছুড়ি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য মাঠে কাজ করার আহবান জানান।