জগন্নাথপুরে চাল বাজারের সঙ্গে সবজি বাজারেও চলছে কারসাজি

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে চাল বাজারে কারসাজি চলছেই। সঙ্গে সবজি বাজারেও আগুন লেগেছে। ফসলডুবির পর এ উপজেলায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চালের মুল্যে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়। স্থানীয় প্রশাসন প্রথম দিকে তৎপরতা দেখালেও এখনও আর সেই তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। রবিবার উপজেলা সদরের জগন্নাথপুর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।  
এলাকাবাসী জানান, সাম্প্রতিককালে জেলার অন্যতম সর্ববৃহৎ জগন্নাথপুরের নলুয়া, মইয়ার ও পিংলার হাওরসহ ছোট বড় ১৫টি হাওরের ফসলহানির সঙ্গে সঙ্গে মুনাফালোভী এক শ্রেণির চাল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজারে চালের মূল্য দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়। উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অতিরিক্ত মূল্যে চাল বিক্রির অভিযোগ প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সদর বাজারের নামে এক চাল ব্যবসায়ীকে       
২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর এক/দুই দিন পর আবারও চাল বাজারের কারসাজি শুরু হয়। এখনো চলছে দেদারসে। চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পাল্লা নিয়ে সবজির বাজারে কারসাজি শুরু হয়েছে। হাওরের মাছে মড়ক দেখা দেখার সঙ্গে সঙ্গে দাম বেড়ে যায় সবজি বাজারে। সরেজমিনে জগন্নাথপুর সদর বাজার সহ বিভিন্ন হাটবাজারে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সাথে আলোচনা করে চাল এবং সবজি বাজারে দ্রব্যমূল্যের ব্যাপক পার্থক্য দেখা গেছে।
তথ্যমতে, পুরাতন ২৮ ও ২৯ জাতের চাল বস্তা প্রতি বর্তমান বাজার দর ২৫০০ থেকে বাড়িয়ে অনেকেই ২৮০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ফসলহানির পূর্বে যার বাজারমূল্য ছিল ২১০০ থেকে ২২০০ টাকা ছিল। আগে প্রতিকেজি চালের মূল্যে ছিল ৩০- ৩৫ টাকা। বর্তমানে প্রতিকেজি চাল ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ দোকানেই মূল্য তালিকা সাঁটানো দেখা যায়নি। মাছে মড়ক দেখা দেয়ার পর থেকেই সবজি বাজারে মূল্য মারাত্মকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে প্রতিকেজি টমেটোর দাম ছিল ২৫ টাকা বর্তমানে ৪০ টাকা, ঢেরস ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ২৫ থেকে ৪০টাকা, আলু ১০ থেকে ১৫ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, গাঁজর ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শসা ২০ থেকে ৩০ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৪৫ টাকা, লেবু প্রতি হালি ২৫ থেকে ৪০ টাকা, করলা ৫০ থেকে টাকা, কাকরুল ৭০ থেকে ৮০টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৫০ টাকা।   
পৌর এলাকার যাত্রাপাশা গ্রামের রমা চন্দ জানান, ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর থেকেই চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। আগে প্রতিকেজি চাল ৩০-৩৫ টাকা দরে কিনেছি। সেই চাল এখন ৫৫ টাকা দরে কিনছি। মাছে মড়ক আসার পর সবজি বাজারেও দাম দ্বিগুণ হয়েছে। আমরা মধ্যবিত্ত মানুষ খুবই দুর্দশার মধ্যে আছি।
চালের মূল্যে বাড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করে চাল ব্যবসায়ী অজিত দাস জানান, আমরা প্রতিবস্তা চাল ২৩৫০ টাকা মূল্যে বিক্রি করছি।   
আরেক সবজি ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বন্যায় সবজির বাগানগুলো ডুবে যাওয়ায় দাম একটু বেড়েছে। আমাদেরকে সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেশি দামে সবজি ক্রয় করে আনতে হচ্ছে।   
জগন্নাথপুরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ জানান, চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ইতিমধ্যে ব্যবসায়ী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মতবিনিয়ম সভা করেছি। বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। কেউ যদি বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করে বাজার অস্থিতিশীল করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।