জগন্নাথপুর অফিস
কয়েকদিনের অব্যাহত ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জগন্নাথপুরের সব ক’টি হাওরের ফসল পানিতে ডুবে যাচ্ছে। সোমবার ভোর থেকে উপজেলার মইয়ার হাওরে পানি প্রবেশ করছে বলে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন। গত শনিবার উপজেলার সর্ববৃহৎ নলুয়াহাওরের ফসল রক্ষার কয়েকটি বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ওই হাওরের ১০ হাজার হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। নলুয়ার হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় পাশের মইয়ার হাওরে পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে। এই হাওরে এবার ৪ হাজার হেক্টর ফসলের আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার পিংলার হাওরের ফসল বৃষ্টির পানি আর পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে।
চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া জানান, নলুয়া হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে ওই হাওরের প্রায় ১০ হাজার হেক্টরের ফসল নিমজ্জ্বিত হয়ে গেছে। কৃষকদের কান্না থামছে না। গত দুই বছর ধরে ফসল গোলায় তোলতে পারছে না কৃষকরা । তিনি দ্রুত এ এলাকাকে দুর্গত ঘোষণার দাবি জানান। নলুয়ার হাওরের পানি নিকটবর্তী মইয়ার হাওরে প্রবেশ করছে।
মইয়ার হাওরের কৃষক খলিল মিয়া জানান, এই হাওরে তিনি ৪৮ কেদারা জমিেেত
চাষাবাদ করছেন। নলুয়া হাওরে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে মইয়ার হাওর ডুবে আমার কষ্টার্জিত সব ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আরেক কৃষক তেরাব আলী জানান, তিনি ২৪ কেদারা জমিতে আবাদ করেন। ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার চাষাবাদকৃত ফসল পানিতে ডুবে গেছে।
কৃষকরা জানান, উপজেলার প্রধান নলুয়া, মইয়া, পিংলাসহ উপজেলার ছোটবড় সব’কটি হাওরের ফসল পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। গত দুই বছর ধরে তারা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে গোলায় ধান তোলতে পারেননি । এবার হাওর রক্ষা বাঁধগুলোতে নি¤œমানের কাজ হওয়ায় হাওরে পানি প্রবেশ করেছে।
জগন্নাথপুরের ইউএনও মোহাম্মদ, মাসুম বিল্লাহ জানান, নলুয়ার হাওরের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। অপর হাওরগুলোতে পানি রয়েছে। আমরা ফসল রক্ষায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, এ বছর নলুয়া, মইয়ার ও পিংলার হাওরসহ ছোট বড় ১৫টি হাওরে ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ফসলের আবাদ করা হয়েছে।


