জগন্নাথপুরে ফসল রক্ষা বাঁধে ফাটল

জগন্নাথপুর অফিস
চৈত্র মাসে টানাবৃষ্টিপাতে ফসলের মাঠে পানি জমে জলাবদ্ধতা, হাওররক্ষা বেড়িবাঁধে ফাটল, শৈত্যপ্রবাহের কারণে ধান পাকতে বিলম্ব হওয়ায় জগন্নাথপুর উপজেলার কৃষকরা চোখে শরষে ফুল দেখছেন। জেলার অন্যতম বৃহৎ হাওর নলুয়া, মইয়াসহ ছোটবড় ১৫টি হাওরের ২৫ হাজার হেক্টর বোরো ফসল নিয়ে উৎকণ্ঠায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন কৃষকরা।
বৃহস্পতিবার সরেজমিন হাওর ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার সর্ববৃহৎ নলুয়ার হাওর ও মইয়ার হাওরের বেশ কয়েকটি জায়গার ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। নারিকেলতলা এলাকায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের একটি বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য কালাম মেম্বারের নেতৃত্বে শতাধিক মানুষ ফাটল ঠেকানোর চেষ্টায় কাজ শুরু করেন। ওই বাঁধের পূর্বে নলুয়া ও মইয়ার হাওরের নারিকেলতলা স্টীল সেতুর নিকটবর্তী দুইটি বাঁধের একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দেয়। বাঁধ থেকে মাটি ধসে  পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধে সংস্কার কাজ চলছে। সরজমিন পরির্দশনকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের দেখা যায়নি।  
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ঝুঁটিপূর্ণ ওই সব বাঁধ যদি দ্রুত সংস্কার করা না হয় তাহলে যে কোন মুহূর্তে নলুয়া ও মইয়ার হাওরের ফসল বিনষ্ট হতে পারে। এছাড়া মইয়ার হাওরের নারিকেলতলা পশ্চিমের হাওরে ঠিকাদার প্রায় ১৫০ ফুট বেড়িবাঁধের   gb    
কাজ অসম্পূর্ণ রেখে যাওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে হাওরের ফসল। তাই বাধ্য হয়ে কৃষকরা বেড়িবাঁধ রক্ষায় নিজেরাই কাজে নামেন।
কৃষকরা জানান, এবার হাওরের ফসল রক্ষাবেড়িবাঁধে নামমাত্র কাজ হয়েছে। বিশেষ করে ঠিকাদারদের কাজে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে। ফলে প্রায় সবকটি বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুল মাহমুদ জানান, নলুয়া ও মইয়ার হাওরের কৃষকদের চোখে এখন ঘুম নেই। কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তুলার আগেই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বৈশার ভাঙ্গা বাঁধে ঠিকাদার কাজ করছে। বালু মাটি থাকায় কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বেড়িবাঁধে ধস নামছে। এছাড়াও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওরে পানি ঢুকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাবুল মাহমুদ আরো জানান, চাকমাবিলের ভাঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। চেয়ারম্যান আরশ মিয়ার প্রকল্পের কিছু কাজ বাকী রয়েছে। বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটের কারণে কাজ করাতে পারছেন না।
চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া জানান, গত কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বেড়িবাঁধগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে ঠিকাদারদের কাজ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নারিকেলতলা এলাকায় ঠিকাদারের অসম্পূর্ণ বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করছে। চেয়ারম্যান আরশ মিয়া তার প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ উল্লেখ করে বলেন, শুধুমাত্র বস্তা ফেলা বাকি রয়েছে।
রানীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, স্টীল ব্রিজ থেকে ১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। দুই কিস্তিতে মাত্র ৫ লাখ টাকা পেয়েছি। তারপরও কাজ করে যাচ্ছি। বুধবার কিছু এলাকায় ফাটল দেখা দিলে তা সংস্কার করতে শ্রমিক লাগিয়েছি। তিনি বলেন, নারিকেলতলার পশ্চিমের হাওর এলাকায় ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ায় হাওর ঝুঁকিতে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ কর্মকর্তা মোসাদ্দেক আহমদ বলেন, হাওরে কাজ পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধে কাজ চলছে। তিনি বলেন, নারিকেলতলা এলাকায় ঠিকাদার সজিব রঞ্জন দাশের প্রকল্পে মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১৫০ ফুট কাজ করা যায়নি। যে কারণে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ওই এলাকা ঝুঁকিতে পড়ে। এ সব ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় স্থানীয় শ্রমিক লাগিয়ে কাজ করানো হচ্ছে।