জগন্নাথপুরে বন্যার পানি কমছে, ভোগান্তি কমেনি

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরে বন্যার পানি কমতে শুরু শুরু করেছে। শনিবার ভোররাত থেকে বাসা-বাড়ির এলাকা থেকে ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে এখনও উপজেলার নদ-নদী ও হাওরে পানি বৃদ্ধি রয়েছে। এদিকে সম্প্রকিতকালে তিনদফা বন্যায় নাজেহাল উপজেলাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অব্যাহত বৃষ্টিপাতেও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢেেল গত ২৪ জুন জগন্নাথপুরে প্রথম দফায় বন্যা হয়। ১১ জুলাই ফের ২য় দফা বন্যা দেখা দেয়। গত ১৯ জুলাই থেকে আবারও তৃতীয় বন্যা দেখা হয়। এরআগে দুই দফা বন্যায় কলকলিয়া, চিলাউড়া-হলদিপুর-রানীগঞ্জ ও জগন্নাথপুর পৌরসভার একাংশের নি¤œাঞ্চলে বন্যাকবলিত ছিল। তবে তৃতীয় দফা বন্যায় জগন্নাথপুর বন্যায় প্লাবিত হয়।
একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় তৃতীয় দফা বন্যার অসংখ্যা বাসা-বাড়ি-বসতঘরে পানি প্রবেশ করে। অনেকেই ঘরের চৌকির ওপর অবস্থান নেন। আবার কেউ কেউ বাঁশের চাঙ্গা বেঁধে পানির মধ্যে বসতঘরে বসবাস করছেন পরিবার পরিজন ও গবাদিপশু, হাঁস মুরগি নিয়ে। ফলে সীমাহীন ভোগান্তিতে রয়েছেন তাঁরা। গতকাল বন্যার পানি কিছুটা কমলেও নি¤œাঞ্চলের বসতঘর-বাড়িতে পানি রয়েছে। উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রায় সকল সড়কের বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানি রয়েছে। সিলেট বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়কেও একই অবস্থা। এ দুই সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে জগন্নাথপুরের শত শত গ্রামীন রাস্তা-ঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। লোকজনের চলাফেরার একমাত্র সম্বল নৌকা।
সরেজমিনে বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক পরিবার পানির সাথে যুদ্ধ করে চৌকিতে বসবাস করছেন। কেউবা আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন আবার অনেকেই আত্বীয় স্বজনদের উঁচু বাড়িতে গিয়ে উঠেছেন।
জগন্নাথপুর পৌরসভার ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে কথা হয় মিনা বেগমের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ঘরে বন্যার পানি উরু সামন। পানিতে ঘরের অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তলিয়ে গেছে। জীবন রক্ষায় আশ্রয় কেন্দ্রে এসে ওঠেছি।
কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল হাসিম বলেন, গতকাল বন্যার পানি সামান্য কমেছে। এখনও ইউনিয়নের ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি। বন্যার পানিতে গ্রামীণ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দূর্ভোগ বাড়ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসির আরাফাত বলেন, জগন্নাথপুরে একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন এবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। উপজেলার ২৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। গতকাল পানি কিছুটা কমেছে। তিনি বলেন, আমরা বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করছি। এবং দুর্গতদের ত্রাণ সহায়তা আমাদের অব্যাহত রয়েছে।