জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মসজিদের গেইট ভাঙতে গিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার ভোর রাতে ৪ জনকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করেছেন স্থানীয়রা। এনিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের বুধরাইল গ্রামের হারুন মিয়া ও একই গ্রামের তারিফ উল্লার পক্ষের লোকজনের মধ্যে গ্রামের মসজিদের গেইট নির্মাণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা মোকদ্দমা চলছে। তাদের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনাও ঘটেছে।
এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে তারিক উল্লার ছেলে আকবুল হোসেনের নেতৃত্বে ভাড়াটিয়া একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মসজিদের গেইট ভাঙ্গতে শুরু করলে প্রতিপক্ষের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে বাধা প্রদান করতে এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা ৬/৭ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। ওই সময় গেইট ভাঙার কাজে নিয়োজিত ৪ জন শ্রমিককে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোর্পদ করেছেন।
আটককৃতরা হলেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ঘাটিয়া ডাংগা গ্রামের মৃত গোলাম নবীর ছেলে আহাম্মদ মিয়া (৫০), নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার জোরহাইল গ্রামের মৃত ছোবার উদ্দিনের ছেলে আজিম উদ্দিন (২৭), একই থানার বটতলা গ্রামের হাদিস মিয়ার ছেলে রানা আহমদ (২২) ও শিবপাশা গ্রামের হারাধন মিয়ার ছেলে কাজল মিয়া (২৩)।
হারুন মিয়ার ভাতিজা মোস্তাক আহমদ মুজাহিদ
জানান, তারিফ উল্লার ছেলে আকবুলের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মসজিদের গেইট ভাঙন শুরু করে । আমরা তাদের বাধা প্রদান করলে সন্ত্রাসীরা ৮/৯ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা পালিয়ে যায়। তারা মসজিদের গেইটের দু’টি পিলার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাদের হামলায় আনাছ মিয়া (১৮) ও রাজিয়া বেগম (৪০) আহত হয়েছেন। এর মধ্যে আনাছ মিয়াকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আকবুল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জগন্নাথপুর থানার ওসি (তদন্ত) মঈন আহমদ জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ৪ জন আটক রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুুতি চলছে।


